তানোরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ সালিশে টাকার মাধ্যমে সমাধান করলো মাতব্বররা
তানোর প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে এক স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ এনে এক কৃষক পরিবারকে জিম্মি করে সালিশের মাধ্যমে মোটা অংশের টাকার আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ওই কৃষক পরিবারকে সালিশের মাধ্যমে এক শ্রেণির মানুষ বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টা আপোষ যোগ্য অপরাধ না হলেও মাতাব্বররা টাকার বিনিময়ে আপোষ করে দিয়েছেন। এনিয়ে এলাকাবাসির মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার প্রকাশনগর গুচ্ছ গ্রামের দিনমজুর মনিরুল ইসলাম মনির (৫৫) একই গ্রামের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের লোকজন এমন প্রচারণা করে তারাই কাছে বিচার প্রার্থী হয়। ঘটনার কোনো সত্যতা যাচাই-বাছাই না করেই আবুল বাসার গুচ্ছগ্রাম ফুটবল মাঠে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশ বৈঠকের সভাপতি আবুল বাসার, বেলাল উদ্দিন, রাশেল ও রোকন দিনমজুর মনিরুল ইসলাম মনিরের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বীকারোক্তি আদায় ও তিন লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু তাদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় ফাঁকা চেক স্ট্যাম্পে মনিরের স্বাক্ষর নিয়ে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। এসময় বাসার ঘোষণা দেন উক্ত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার বাড়ির গরু-মহিষ বিক্রি করে টাকা আদায় করা হবে।
এদিকে গত রোববার (২৩আগস্ট) আবুল বাসার ২০ হাজার টাকা মাফ দিয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা আদায় করেছেন। আর এসব টাকা ভিকটিমের পরিবারকে দেয়া হয়নি। মনিরুল ইসলাম মনিরের পুত্র নাজমুল বলেন, তারা গরিব অসহায় তাই তাদের জিম্মি করে জরিমানার নামে সালিশ বাণিজ্য করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, শ্লীলতাহানির মুল্য ৩ লাখ ১০ হাজার, মাফ ২০,আদায় ২ লাখ ৯০ হাজার, বোর্ড খরচরের নামে দেড় লাখ টাকা গায়েব করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সালিশ বৈঠকের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুরো গ্রামবাসি মিলে বিচার করা হয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টা আপোষযোগ্য অপরাধ নয়, আপনি বিচার করলেন কিভাবে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাদি থানায় অভিযোগ করবে না, তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিচার করা হয়েছে এতে সমস্যা কি ? তিনি বলেন, সব যদি থানা পুলিশ করে তাহলে কাউন্সিলর হিসেবে তাদের কাজ কি ?। এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
