রাবিতে র্যাগিং : অশ্লীল কবিতা আবৃত্তিসহ দেওয়া হয় মারধরের হুমকি
রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন সিনিয়রের বিরুদ্ধে র্যাগিং, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভুক্তভোগী ১০ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানভীরুল ইসলাম ইমন, আফতাব ইমন, সজিব রহমান, অলি আহমেদ, রিওন খান, তাসিবুল ফাহাদ, মাহফুজুল ইসলাম নয়ন, ফরহাদ রেজা ইমন এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাফিউল ইসলাম অনিক এবং ভুক্তভোগীদের সহপাঠী নোমায়েত ইসলাম মারুফ।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মিত তবে তাদেরকে বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে তথাকথিত ‘ম্যানার শেখানো’র নামে অপমানজনক আচরণ করা হয়।
বারবার নিজের পরিচয় দেওয়া, বিকৃত কবিতা আবৃত্তি, অকারণে গালাগাল, মারধরের হুমকি এবং খাতায় একাধিক পৃষ্ঠা ধরে সিনিয়রদের নাম লিখতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া সিনিয়রদের ডাকে সাড়া না দিলে হুমকি এবং তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অভিযুক্তরা।
ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে গত বছরের নভেম্বরে বিভাগে এক শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে করা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা জানান, সে সময় এসব নতুন শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সেই আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। সেই আন্দোলনে নিরপেক্ষ থাকতে চাইলে তাদের পুরো ব্যাচকে ‘বয়কট’ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে তারা।
লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, গত শনিবার বিকেলে বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে আবারও নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সেই শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত না হলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর রবিবার একটি মিথ্যা নোটিশ দিয়ে ভুক্তভোগী এসব শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ডেকে এনে সিনিয়রদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। উপস্থিত না হলে বিভাগ ও ব্যাচ থেকে ‘বয়কট’ করার হুমকির কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে র্যাগিংয়ের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্ত তাসিবুল ফাহাদ বলেন, আমরা জুনিয়র ও সিনিয়র সবাই একসঙ্গে বসেছিলাম। আমরা কোনো র্যাগ দেইনি, আমরা সিনিয়র হিসেবে তাদের নবীনবরণের বিষয়ে আলোচনার জন্য বসেছিলাম। র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে জানতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাহিদ হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘গতকাল আমরা হাতেনাতে ধরেছি। এ ছাড়া অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগের সঙ্গে কিছু স্ক্রিনশট যুক্ত করেছে। আমরা সবই পর্যালোচনা করছি। বিভাগের সাথেও কথা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
