কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে
দেশের কৃষিখাত অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। ধান, মাছ, গোশত, দুধ, আলু, শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন, তরমুজ, লবণ, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ফলফলাদি, রবিশস্যসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন অনেক সময় লক্ষ্যমাত্রা ও মোট চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাম্পার ফলন হয়। কৃষির এই স্বয়ংসম্পূর্ণতার পেছনের মূল কারিগর বা মেরুদণ্ড হয়ে আছে কৃষকরা। তারা বছরের পর বছর ধরে নিবেদিত হয়ে কঠোর পরিশ্রম করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে যাচ্ছে। সমস্যা হয়ে দেখা দেয়, অনেক ক্ষেত্রে তারা উৎপাদিত ফসলের দাম পায় না। ন্যায্যমূল্য পাওয়া দূরে থাক, তাদের উৎপাদন খরচই উঠে না। ফসলের দাম না পেয়ে প্রায় প্রতিবছরই কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সড়কে ফেলে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। আবার সেগুলো গবাদি পশুর খাদ্য বানায়। অন্যদিকে, রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে ওইসব কৃষিপণ্যের দাম উৎপাদন স্থল থেকে কয়েক গুণ বেশি থাকে। একদিকে, কৃষক উৎপাদন খরচ না পেয়ে ফসল রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে, আরেক দিকে একই ফসলের দাম শহরাঞ্চলে আকাশছোঁয়া হয়ে থাকে। এই বিপরীত চিত্র কৃষকের জন্যও দুর্ভাগ্যের, শহরাঞ্চলের মানুষের জন্যও দুর্ভাগ্যের। এর মূল কারণ হচ্ছে, উৎপাদিত পণ্যের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং মধ্যসত্ত্বভোগীদের কাছে কৃষককে জিম্মি হয়ে যাওয়া। ঘামে-শ্রমে ফসল ফলিয়ে লোকসান দেয় কৃষক, লাভ করে মধ্যসত্ত্বভোগীরা। ফসল বেশি ফলানোই যেন কৃষকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। দেশে শীতের আমেজ দেখা দিয়েছে। শীত মৌসুমে শাকসবজির প্রাচুর্যতা থাকে। টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সীম, লালশাক, পালংশাক, শালগম, লাউ, মুলাসহ অন্যান্য মৌসুমী শাকসবজি কৃষকরা ব্যাপকহারে উৎপাদন করে। বাজারেও সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে বাজারে শীতের আগাম সবজি উঠেছে। চওড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তা হাতের নাগালের বাইরে। তবে যতই দিন যাবে বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকবে। দামও কমবে। তখন দেখা যাবে, কৃষক তার উৎপাদিত শাকসবজির দাম পাচ্ছে না। বরাবরের মতো সড়কে ফেলে প্রতিবাদ করছে। একদিকে কৃষক উৎপাদনস্থলে দাম পাচ্ছে না, আরেকদিকে নগরীতে ভোক্তারা অধিক দামের কারণে কিনতে পারছে না। এই বিপরীত চিত্রের অবসান ঘটা জরুরি। এজন্য সরকারকে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যদাম পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। জমি থেকে বাজার পর্যন্ত ফসল সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকও যাতে দাম পায়, ভোক্তারাও যাতে তাদের সাধ্যের মধ্যে পণ্য কিনে স্বস্তি থাকতে পারে, এই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারকে কৃষক এবং ভোক্তা উভয়কেই স্বস্তিতে রাখতে হবে।
