সম্পাদকীয়

মাদরাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন যথাসময়ে দিতে হবে

বিরান্নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে প্রকৃত ইসলামী শিক্ষা, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, সামাজিক-পারিবারিক মূল্যবোধ, নিয়ম-শৃঙ্খলা গঠনের অন্যতম কারিগর মাদরাসা শিক্ষকরা। ইসলামী চিন্তা ও দর্শনের মূল কা-ারি হয়ে আছেন তারা। অথচ তারা সবসময়ই অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন। ঠিকমতো বেতন-ভাতা পান না। মানবেতর জীবনযাপন করেন। শত দুঃখ-কষ্ট সয়েও তারা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকার আসে, সরকার যায়, তাদের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। গতকাল দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, গত মে মাসের বেতন এখনও ছাড় না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন দেশের এমপিওভুক্ত মাদরাসার ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী। বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। এ নিয়ে দেশের মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের একমাত্র পেশাজীবী অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব প্রিন্সিপাল শাব্বীর আহমদ মোমতাজী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের দুঃখ দুর্দশা ও ভোগান্তি লাঘবে যে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর গঠিত হয়েছিল, সেই মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরই আজ শিক্ষকদের ভোগান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে শিক্ষক কর্মচারীদের মে মাসের বেতন বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েও কোনো সদুত্তর পাইনি। তারা মনে করেন, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের চরম গাফিলতির কারণেই এই নজিরবিহীন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে সার্বক্ষণিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। আশা করছি, অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এটা আশার কথা। তবে এ ধরনের সমস্যায় যাতে মাদরাসা শিক্ষক ও কর্মচারিদের ভবিষ্যতে পড়তে না হয়, এ বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার যেভাবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিকার্ড ইত্যাদিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে, তদ্রুপ দেশের ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ অটুট রাখা এবং এগিয়ে নেয়ার কারিগর মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা যাতে নিয়মিত হয়, সেটাকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে। একইভাবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যেসব দায়িত্বশীল ব্যক্তি গাফিলতি ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে এবং সরকারের ভাবমর্যাদা বিনষ্ট করে ইসলামপ্রিয় মানুষের কাছে ভুলবার্তা দেয়ার অপচেষ্টা করছে, তাদেরকে জাবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। যারা এই কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা এমন দুঃসাহস দেখানোর পুনরাবৃত্তি না করতে পারে। আমরা মনে করি, মাদরাসা শিক্ষা এবং শিক্ষক-কর্মচারিদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা উচিৎ। এ ব্যাপারে তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট