সম্পাদকীয়

সাধারণ মানুষের এই মুহূর্তের সংকট কাটাতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে

গত কয়েকদিন ধরে বেতনবৃদ্ধির দাবিতে রাজধানী, গাজীপুরসহ অন্যান্য এলাকায় গার্মেন্ট শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চলানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তাদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে এই বিক্ষোভ চলছে। তাদের দাবি, বর্তমান সর্বনিম্ন বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তিন বছরের জন্য গার্মেন্ট শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছিল। এই মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নতুন বেতনকাঠামো গঠন এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তারা আগেভাগেই বিক্ষোভ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সরকার ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণে ওয়েজ বোর্ড গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের কাছে তাদের তিনজন প্রতিনিধি বোর্ডে দেয়ার জন্য বলেছে। এই বোর্ড নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে। শ্রমিক সংগঠনগুলো মনে করছে, এই বোর্ড গঠন হলে শ্রমিকদের আন্দোলন কিছুটা প্রশমিত হবে। অন্যদিকে গার্মেন্ট কারখানার মালিকরা অভিযোগ করে বলেছেন, ওয়েজ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়া সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের নানা কথা বরে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ভালো রাখতে না পারলে, তার দায় সরকারের উপর বর্তায়। আয়ের সাথে ব্যয় সংকুলান করতে না পেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে, তার জন্য তারা সরকারকেই দায়ী করছে। তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজমান থাকলেও তারা ধৈর্য্য ধারণ করে আছে। বিচ্ছিন্নভাবে গার্মেন্ট শ্রমিক ও অন্যান্য পেশার মানুষ সড়কে নামলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কথা বলছে না। সরকার যদি তাদের চলমান সংকটময় জীবনকে সহজ করার জরুরি উদ্যোগ না নেয়, তাহলে তাদের এই ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙে যেতে বেশি সময় লাগবে না। তাছাড়া সরকারকে বেকায়দায় ফেলা বা ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য বিরোধীদল ও পতিত আওয়ামী লীগ ওঁতপেতে আছে। তারা সাধারণ মানুষের এই যৌক্তিক ক্ষোভকে উসকে দিয়ে এ কাজ করতে বিন্দুমাত্র দেরি করবে না। সরকারের উচিৎ, এ বিষয়গুলো দ্রুত অনুধাবন করে এখনই সাধারণ মানুষের টানাপোড়েনের জীবনযাপনকে সহজ করতে কিছু উদ্যোগ নেয়া। কর্মসংস্থান বাড়াতে বিদ্যমান আভ্যন্তরীণ খাতগুলোকে কীভাবে উজ্জীবিত করা যায়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় করার উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে। মনে রাখা দরকার, সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্যোগ ও পরিকল্পনার সুফল পেতে যে সময় লাগবে, সে পর্যন্ত সরকারকে পৌঁছতে হলে সাধারণ মানুষের এই মুহূর্তের কঠিন জীবনযাপনকে সহজ করার জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি তা না করা যায়, তাহলে সরকারের সেই লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছার পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে যাবে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট