নগরীতে শিশু বলাৎকারের দায়ে যাজ্জীবন দণ্ডিত হলেন মাওলানা জিহাদী
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকায় অবস্থিত জামি’আ রহমানিয়া মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক হটাৎ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মাদরাসার মুহতামিম (পরিচালক) কথিত মাও. আব্দুল জব্বার জিহাদীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন থেকে কোমলমতি শিশুদেরকে বিশেষ আনুকূল্য দিয়ে, লোভ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বলৎকার করে আসছিলেন। রমজান মাসে ই’তিকাফ অবস্থায়, মসজিদের মধ্যে বলৎকারের ঘটনা বিশেষভাবে বিক্ষুদ্ধ করে তোলে ছাত্র-শিক্ষকদের। তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির জরুরি বৈঠকে জিহাদীকে ভহিষ্কার করে তার পদ থেকে। ভুক্তভোগী এক শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন বোয়ালিয়া থানায়। থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জেল হাজতে পাঠান। দীর্ঘ নয় বছরের আইনি লড়াই শেষে গত ১৮ অক্টোবর রবিবার, জিহাদীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতের যাবজ্জীবন শাস্তির ঘোষণা আতঙ্কমুক্ত করেছে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের, স্বস্তি ফিরে এসেছে এই দ্বিনী প্রতিষ্ঠানটিতে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২৫ অক্টোবর ২০১৭ বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীর পিতা। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই-এ স্থানান্তর করা হয়। পিবিআই তদন্ত শেষে অভিযোগ গঠন করে মামলাটি তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১ এ প্রেরণ করে। আদালত ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার শুনানিকালে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল-এ হস্তান্তর করেন। সকল বিচারিক প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে দীর্ঘ নয় বছর পর বিজ্ঞ আদালত আসামী আব্দুল জব্বার মাহমুদ ওরফে জিহাদীকে দোষী সাব্যস্ত করে গত রোববার বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন,“যাবজ্জীবন স্শ্রম কারাদন্ড ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড।”
রায়ে সন্তোষ প্রকোশ করে মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন মাদরাসার বর্তমান মুহতামি মাও. সাইদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদেরকে এই মামলার জন্য বেশ প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’ এই রায়ে মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক সকলেই সন্তুষ্ট। মাও. সাইদুজ্জামান আরো বলেন, জিহাদীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মাদরাসার জমি নিজ নামে দলিল করে নেয়ার (যার বাজার মূল্য ৬৬ লক্ষ টাকা প্রায়) অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, মাদরাসার জমি ও অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের করা আরো তিনটি মাললা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ভিক্টিম শিশুর মাতা তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যদিও আমার সন্তানের জীবনটা নষ্ট করার কষ্ট চিরদিন থেকে যাবে, তারপরেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমি সন্তুষ্ট, আশাকরি মাদরাসাতে আর কোনো শিশুর জীবন নষ্ট হবে না!
