সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পটে প্রধানমন্ত্রী, জবাবদিহির অনন্য দৃষ্টান্ত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কোয়ার্টারসহ ১৩টি স্পট পরিদর্শন করেন, যা প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং মাঠ পর্যায়ের তদারকির অনন্য দৃষ্টান্ত। সাধারণত দেখা যায়, উচ্চ পর্যায়ের ভিআইপি পরিদর্শনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা, প্রটোকল এবং দীর্ঘ আয়োজনই মুখ্য হয়ে ওঠে—সেই পুরনো রীতি ভেঙে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। গতকাল প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এই ১৩টি স্পটে প্রধানমন্ত্রী শুধু চোখের দেখাই দেখেননি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন, নিয়মবহির্ভূত আচরণের জন্য সাময়িক বরখাস্তসহ, ত্রুটি শুধরে নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সময়সীমাও বেঁধে দেন। এ ছাড়া ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে জোর দেন তিনি। খবরে জানা যায়, দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আকস্মিক পরিদর্শনকালে এক চিকিৎসককে নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসককে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ উন্নয়নের নির্দেশ দেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, রান্নাঘর, শৌচাগারসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন। মিরপুর ১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও ঘুরে দেখেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।’ আমরা দেখে আসছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেশ কিছু ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একসময় ভিআইপি চলাচলের জন্য রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখা হতো। সেই রীতি এখন আর নেই। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থামিয়ে রোগীর অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতের পথও করে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তিনি হঠাৎ হাজির হয়েছেন। এতে কর্মকর্তারা জবাবদিহির মুখে পড়েছেন—আমাদের মতো দেশে যা অত্যন্ত জরুরি। দেশের প্রশাসনিক পর্যায়ে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নতুন কিছু নয়। নানা সময় প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন আসে। রয়েছে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ। সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ রয়েছে। এসবের পেছনে অন্যতম কারণ হলো জবাবদিহির অভাব। শীর্ষ পর্যায়ে স্বচ্ছতা না থাকলে, পর্যায়ক্রমে তা নিচেও ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। এই অবস্থায় একটি দেশ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অগ্রসর হতে পারে না, বরং পিছিয়ে পড়ে। কাজেই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনো বিকল্প নেই। বলা বাহুল্য, প্রধানমন্ত্রীর এমন তৎপরতা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা। আশা করি, এই বার্তা সরকারের অন্যান্য স্তরের কর্মকর্তারা আমলে নেবেন এবং ভুলত্রুটি শুধরে নেবেন—সর্বোপরি প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে। পরিশেষে বলি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাক—এটাই কাম্য।
