নাটোরে ডায়রিয়ার প্রকোপ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন
নাটোরে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের। গতকাল প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডায়রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ১০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুুরুষ এবং ৪৭ জন নারী ও শিশু। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ নাটোর পৌরসভার কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। খবরে বলা হয়েছে, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। একটা সময় ছিল, যখন ডায়রিয়া মহামারিতে গ্রামের পর গ্রাম মানুষ মারা যেত। এখন সেই সময় নেই। কিন্তু ডায়রিয়ার বিপজ্জনক দিক কমেনি, বরং একটু অবহেলার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। কাজেই কেন একটি জেলার মানুষ বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আক্রান্তদের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি কি না—এসব তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন। নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, মৌসুম পরিবর্তনের সময়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বাড়লেও এবার রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। গত এক সপ্তাহে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫১৬ জন ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক দিনেই ভর্তি হয়েছে ৪৭ জন। এর পাশাপাশি প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাড়তি স্যালাইন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে খাবার স্যালাইন গ্রহণের মাধ্যমে ডায়রিয়ার ভয়াবহতা এড়ানো সম্ভব। বিশুদ্ধ পানি পান করা, খাবার ঢেকে রাখা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে এই পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে, যেন পরিস্থিতি কোনো মহামারি আকার ধারণ করতে না পারে। আমরা মনে করি, নাটোরের পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। যেসব এলাকার মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, সেখানকার পানি পরীক্ষা করা দরকার। কেননা রোগ ছড়ানোর উৎস বা কারণ চিহ্নিত করতে পারলে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
