প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেই বাগমারায় হাট-বাজারে ঢলন সিন্ডিকেট, বিপাকে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা 

রাজশাহীর বাগমারায় ধান, আলু, মরিজ, পেঁয়াজসহ সবজিতে হাট-বাজারে ঢলন নেওয়ার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকে মন প্রতি (৪০ কেজি) ২ থেকে ৩ কেজি ঢলন নেওয়া হচ্ছে। ক্রয় করতে গেলে ঢলন দেওয়া হয় না। কৃষকদের পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ঢলন সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীর চক্রের কারসাজিতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। নিয়মিত তদারকি ও শাস্তি ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে দালাল-ফুঁড়িয়াদের কাছে কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের অতি মুনাফা লোভের কবলে হাট-বাজারে প্রতি নিয়তই ঢলন সিন্ডিকেটের কবলে প্রতি মন ঢলন দিতে কৃষককে বড় ধরনের গাচ্ছা দিতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনিক ভাবে হস্তক্ষেপের কামনা করেছেন কৃষকরা।

জানা যায়, বাগমারা উপজেলায় ভবানীগঞ্জ, তাহেরপুর, শিকদারি মাদারীগঞ্জ মোহনগঞ্জ, মচমইলসহ বেশ কিছু বড় ধরনের হাট-বাজার রয়েছে। এ সব বাজারে এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিলে ন্যায্য দামের সাথে প্রতি মন অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ কেজি যা মন নেয় যা ৪২/৪৩ কেজি পণ্য ঢলন নেওয়ার দাম কাটছে। এতে দিতে অস্বীকৃতি জানালে দাম আটকিয়ে ক্রেতাকে নাজেহাল করা হয়। উপজেলার ভবানীগঞ্জ, তাহেরপুর, শিকদারী ও মোহনগঞ্জ বাজারে ধান, পেঁয়াজ, আলু প্রতি মন ২/৩ কেজি অতিরিক্ত ঢলন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। একই সাথে আলু, মরিজ, বেগুন মন প্রতি অতিরিক্ত ৩/৪ কেজি বেশী নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এতে করে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে পণ্য বিক্রেতা কৃষকরা। একই সাথে কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, বিক্রি করতে গেলে অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে কিন্তু পণ্য ক্রয় করতে ওই সুবিধা মিলে না। ক্রেতারা ব্যবসায়ীর কাছে ক্রয় করতে গেলে ৪০ কেজেতি মন ক্রয় করতে হয়। বিক্রয় করতে গেলে বেশী ক্রয় করতে গেলে কম প্রতিটি হাট-বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রনে বাজার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। কৃষকরা দাবি করে বলেন, ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয় করলে বাজার ঠিক থাকে। ধান, আলু, পেঁয়াজ ক্রয় করা থেকে বিরতি দিলেই ধানের বাজার পড়ে যায় তাদের করসাজিতে।

এদিকে এবারে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সারের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকটে অতিরিক্ত মুজুরীতে কৃষকের ধান চাষে খরচ অনেকটা বেড়েছে। ফলে বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে কৃষকরা দাবি করেছেন।

উপজেলার মোহম্মাদপুর, গোপালপুর, বালানগর, দেউলিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোরা মওসুমে বীজ সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের চাষে প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হয়েছিল। এবারে রোপ-আমন চাষে কৃষকরা পুষিয়ে নিতে গত বছরের থেকে বেশী ধানচাষ ও উৎপাদনে ঝুঁকেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ১৫/১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ১২শ’/১৩শ’ টাকা দামে ধান বিক্রি চলছে। বিঘায় মওসুমের ধান উৎপাদন ১৪/১৫ মন ফলছে। কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরীসহ উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে ধান চাষে বিঘা প্রতি ৩ হাজর থেকে ৪ হাজার টাকা লাভ মিলছে। দীঘ প্রায় ৪ মাস ধরে মুলধন ও শ্রম দিয়ে তেমন লাভ না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। শুক্রবার উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ হাটবারে বাজারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ধান বিক্রেতারা সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। বিক্রেতারা বলেন, সকাল ৭টার সময় বাজারে ধান নিয়ে এসেছি। ধানের ব্যাপক আমদানী ধানের সরবরাহ দেখে ধান ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয় করতে দেরি করছে। এছাড়া ধানের দাম কম দিতে দাম-দর করছে না। বাজারে ৭৫ জাতের ধান বেশী উঠেছে। অন্য ধান হাইব্রিড, বিআর-৪৯,বিআর-৫১, বিআর-৫২  এসেছে। হাইব্রিড ধান ১১শ’ টাকা ও ৭৫ জাতের ধান ১২শ’ টাকায় বিক্রি চলছে। গ্রামের শিক্ষিত কৃষক বালানগর গ্রামের আলতাফ হোসেন, দুলাল হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, বাজারে সব জিনিসের দাম উর্দ্ধগতি সে হিসেবে ধানের বাজার কম। ধান উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশী। ফলে ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

 এ দিকে বাজার নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা না থাকায় ধানের বাজার অস্থিতিশীল। এতে করে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও রোদ্দ-বৃষ্টিতে খেটে খাওয়া উৎপাদনশীল কৃষকরা বরাবরের মতই বিড়াম্বনায় পড়ছেন বলে চাষীরা জানিয়েছেন।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট