উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের আর্থ সামাজিকউন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে রাকাব
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ১৯৮৭ সালের ১৫ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়ে উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের কৃষকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রাকাব অন্যান্য তফশিলি ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের কর্তা ব্যক্তিরা।
রাকাব সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে তুলনায় রাকাব চলতি অর্থবছরে বর্তমান ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সুদক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে প্রায় সকল ইনডিকেটরেই গগনচুম্বী সফলতা অর্জন করেছে। এটি সর্বশেষ এমডিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত গভর্নর সভায় গভর্নর ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। এ সফলতা অব্যাহত রাখতে নতুন অর্গানোগ্রাম, গৃহনির্মাণ নীতিমালা, মোটরসাইকেল লোননীতিমালাসহ গ্রহণ করা হয়েছে সরকার ঘোষিত ৩ হাজার কোটি টাকার প্রদত্ত প্যাকেজসহ নতুন নতুন কর্মসূচী। যা উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি এবং কৃষকের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায় বর্তমানে প্রায় সকল তফশিলি ব্যাংকের সিএল ৩০% এর উপরে। কিন্তু রাকাবের সিএল মাত্র ১৬%। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটির আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৫৫.৭১ কোটি। যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ অর্জন। সিএল প্রভিশন গত অর্থবছরে ছিলো ৭০২.৮৭। চলতি অর্থবছরে ৬৮৯.৭৪ কোটিতে নেমে এসেছে। এখানেও ১৩.১৩ কোটি প্রভিশন ঘাটতি কমে গেছে। নেট লস গত অর্থবছরে ছিলো ২৮৯.৩৯ কোটি টাকা। এ থেকে এ বছর অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ১৭১.১৫ কোটি টাকার লোকসান কমে ১১৮.২৪ কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এ অর্জন বর্তমান এমডির জোন টু জোন ভিত্তিক মনিটরিং এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নির্দেশনার ফলে অর্জিত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। রাকাব সূত্র আরো জানায়, নির্বাচনী ইশতেহারে সরকার ঘোষিত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ সবার আগে বাস্তবায়ন করে মোট ২ লক্ষ ৪০ হাজার কৃষক পরিবারকে ২২৭ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ সুবিধা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের সকল প্রকার কেনাকাটা পূর্বের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান ব্যাংক ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতার সাথে আইসিটি খাতের কেনাকাটায় কঠোর নজরদারিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাকাবের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা অতীত সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছিল ঠিক তখনই বিগত ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগী গুটি কয়েক কর্মকর্তা নিজেদের চেহারা পাল্টিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ও ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে। রাকাবে বিগত ৩৮ বছরে প্রায় ৬০ জন এমডি বদল হয়েছে। বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধায় বাধা দেবার কারণে কোনো এমডিকেই ঠিক মতো কাজ করতে দেননি তারা। উল্টো মব বিশৃঙ্খলা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ব্যাংক থেকে বদলি নিতে বাধ্য করে এই সিন্ডিকেট।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি গোলাম মোর্তজা অসুস্থ্য থাকায় এবং জিএম তাজ উদ্দিন ছুটিতে থাকায় ব্যাংকের উল্লেখিত ব্যাপারে এমডির স্টাফ অফিসার মাসুম বিল্লাহ বলেন, রাকাব উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন মান উন্নয়নে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তিনি বলেন রাকারে কিছু দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা এসব উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। এই গুটি কয়েক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার জিম্মিদশা হতে মুক্তি চায় রাকাবের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে তাদের এসব বাধা অতিক্রম করে রাকাব সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
