ভারত থেকে ধেয়ে আসছে পানি গোদাগাড়ীতে বন্যার আশংকা
গোদাগাড়ী সংবাদদাতা
ভারতের উজান থেকে পানি ধেয়ে আসায় রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগেও যে নদী বালুচরের কারণে মরা খালে পরিণত হয়েছিল, সেখানে এখন বইছে ঘোলা পানির তীব্র স্রোত। উজান থেকে বিপুল পরিমাণ ঢল নেমে আসায় যেকোনো সময় পদ্মা পাড়ের চরাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) সূত্র জানায়, পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও ফারাক্কা ব্যারেজের বাঁধ পেরিয়ে আসা এই ঢলে গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষের মনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত বছরের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ভয়াবহ বন্যায় এ অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সে সময় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা খুব একটা কাজে আসেনি। গোদাগাড়ী উপজেলার আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জোহরুর ইসলাম জানান, পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ছে। প্রতিবছর বন্যার পরপরই দেখা দেয় নদীভাঙন। গত বছর এ ইউনিয়নের অন্তত ৫০ বিঘা ফসলি জমি এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে ভিটেমাটিচ্যুত হয়েছে। ৬০টিরও বেশি পরিবার তাদের সহায়-সম্পদ সরিয়ে বরেন্দ্র এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এবারও পানি বাড়ার সাথে সাথে নদী তীরের হাজারও মানুষ নতুন করে ভিটেবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, তৎকালীন পাকিস্তান ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের সময়ে ১৯৬৮-৬৯ সালে ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ একতরফাভাবে নির্মাণ করে এবং ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল এটি চালু করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের নদ-নদী এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে আসছে।
নদী গবেষক ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কার সব গেট বন্ধ করে পানি আটকে রাখার ফলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। আবার বর্ষা মৌসুমে ফারাক্কার সবগুলো গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ অংশে প্লাবন ও তীব্র নদীভাঙন দেখা দেয়।
গোদাগাড়ীর স্থানীয় জেলে ও প্রবীণ মাঝিদের অভিযোগ- প্রতিবছর বর্ষায় ফারাক্কার গেট খুলে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাংলাদেশের ঘরবাড়ি, ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়, অথচ দীর্ঘমেয়াদে পানির ন্যায্য হিস্যা ও যৌথ নদী ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমাধান মেলেনি। বর্তমানে পানি বৃদ্ধির ফলে গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলসহ তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নদীভাঙনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যার কারণে সীমান্তঘেঁষা বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
