সরকারের পদক্ষেপ দৈনিক ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা

প্রতি মাসে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত বিল অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের দায় কার?

সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এসব টাকা আদায়ের নামে চলছে চিঠি চালাচালি। প্রতি বছর জুন শেষ হলেই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে শুরু হয় উৎকণ্ঠা। আগের মাসের চেয়ে কয়েক গুণ বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বিদ্যুৎমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার পরও এবারও নিয়মে ফেরেনি এই অনিয়ম। গ্রাহকদের প্রশ্ন, বাসায় নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র লাগানো হয়নি, তার ওপর ছিল লোডশেডিং। তবু কেন জুনের বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বাড়ল! ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের এমন যৌক্তিক প্রশ্নে নানা যুক্তি দেখাচ্ছেন বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শুধু পোস্টপেইড নয়, প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীরাও একই ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঢাকার ১৪ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৩ দিনে তিনি ৯ হাজার টাকার রিচার্জ করেছেন। অথচ মিটারে বাকি আছে মাত্র ৭২৪ টাকা। অন্য মাসে যেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় মাস চলে যায়, এবার একই ব্যবহারে প্রায় তিন গুণ অর্থ খরচ হয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের ভুল নীতির কারণেই দেশে বিদ্যুৎ খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছিল, তাতে রাষ্ট্রের স্বার্থ সুচারুভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে সেই চুক্তির সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ে চলতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রত্যেক গ্রাহককে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিটার ভাড়া হিসেবে দিতে হয়। মিটারের নির্ধারিত দাম পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে এ চার্জ কেন নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয়। তবে কোনো মাসে রিচার্জ করা না হলে পরবর্তী রিচার্জে তা সমন্বয় করা হয়। প্রি-পেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অস্বস্তি ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য প্রি-পেইড মিটারের মাসিক ভাড়া (মিটার চার্জ) প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।  মার্চের বিল জমা দেয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। সেটি যুক্ত হলে তা আরো বাড়বে। দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং নতুন কেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভাগে এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলারা দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সরকারের প্রায় ৬ মাস পূর্ণ হচ্ছে, তারপর এসব আমলাকে বদলি করা হয়নি। সে কারণে সরকারের নেয়া উদ্যাগগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ ইনকিলাবকে বলেন, গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য প্রি-পেইড মিটারের মাসিক ভাড়া (মিটার চার্জ) প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।অপরদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দাবি বলেন, জুনে তাপমাত্রা বেশি থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি হয়েছে। তাই আগের মাসের চেয়ে বিল বেশি এসেছে। তিনি মনে করেন, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। এ জন্য অনেকেরই বিল বেশি এসেছে, এটা স্বাভাবিক। দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রায় পাঁচ কোটি। এর বড় একটি অংশ এখনও পোস্টপেইড মিটার ব্যবহার করেন। এসব গ্রাহকের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত মিটার রিডিং নেওয়া হয় না। কোথাও কোথাও দেওয়া হয় অনুমাননির্ভর বিল। আবার কোথাও একসঙ্গে কয়েক মাসের রিডিং যোগ করা হয়। প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীরা বলছেন, জুন-জুলাইয়ে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করার পরপরই টাকা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, হবিগঞ্জ, নাটোর, জামালপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র: ইনকিলাব
 

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট