রাজশাহীর সড়কে প্রতি দুই দিনে একজনের মৃত্যু
প্রভাত ডেক্স
রাজশাহীর সড়কগুলো যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হ”েছ। প্রতিদিন সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটছে। আর প্রতি দুই দিনে মৃত্যু হ”েছ অন্তত একজনের। রাজশাহী পুলিশ ও মহানগর পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, স্বজন হারানোর আর্তনাদ এবং ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ-সব মিলিয়ে সড়ক নিরাপত্তা এখন রাজশাহীর অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ডাম্প ট্রাক ও বালুবাহী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। রাজশাহী পুলিশ ও মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে (২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত) জেলায় ১৩৫টি এবং মহানগরীতে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১৬৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ট্রাক বা ডাম্প ট্রাকের কারণে। আর বিআরটিএর হিসাবে গত জুন মাসে রাজশাহী বিভাগে ৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৬ জন।গত ৫ মে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ এলাকায় একটি ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এক দোকানি নিহত হন। ক্ষুব্ধ জনতা দুটি ডাম্প ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ বছরের ১ জানুয়ারি একই মহাসড়কের ঝলমলিয়া বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুবাহী ট্রাক বাজারের ভিতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনা¯’লেই চারজন নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েকজন। ২৬ জানুয়ারি বেলপুকুর এলাকায় একটি বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনজন।পুলিশ জানিয়েছে, ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হ”েছ। মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র, ফিটনেস, চালকের লাইসেন্স এবং অতিরিক্ত মালামাল বহনের বিষয়গুলো তদারকি করা হ”েছ। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভাও করা হ”েছ। তবু দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন সরকার টিটু বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অনেকগুলো কারণ দায়ী। মহাসড়কে ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভটভটির জন্য সরকার আলাদা লেন বা সড়ক নির্মাণ না করায় এসব যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করছে। এসব চালকের অনেকেরই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ ¯’াপনা ও হাটবাজার গড়ে ওঠায় সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ সাধারণ মানুষের পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। পাশাপাশি অনেক চালক বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই যানবাহন চালা”েছন। ফলে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যা”েছ। রাজশাহীতে বর্তমানে ৮৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ২৮৮ কিলোমিটার জেলা সড়ক আছে। সড়কের পরিমাণের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও নিরাপদ সড়ক ব্যব¯’াপনা সেই হারে উন্নত হয়নি বলে মনে করছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমানুল্লাহ বিন আখতার আবিদ। তিনি বলেন, যেখানে প্রশস্ত সড়ক প্রয়োজন, সেখানে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। যেসব ¯’ানে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলোর অধিকাংশই এক লেনের সড়ক।
