নগরীর যাত্রী ছাউনিগুলো আবারো দখলে      

হাবিব আহমেদ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন যাত্রী ছাউনিগুলো কি আদৌ দখল মুক্ত হবে, এমন প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। নগরীর মোড়ে মোড়ে সাধারণ পথচারিদের বিশ্রাম, রোদ-বৃষ্টি ঝড়-ঝাপ্টা থেকে রক্ষার জন্য যাত্রী ছাউনিগুলো নির্মাণ করা হলেও প্রায় সবগুলো এক শ্রেণির মানুষের দখলে। যাত্রী ছাউনি দখল করে স্থায়ীভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের রুপ দেয়া হয়েছে। এতে দুরদূরান্ত থেকে লোকজন রাজশাহী নগরীতে কাজে-কামে এসে বসার জায়গাটুকু না পেয়ে বিড়াম্বনায় পড়ছেন। আর এসব যাত্রী ছাউনি অবৈধভাবে দখল করে এক শ্রেণির মানুষ ব্যবসা বাণিজ্যের আঁতুরঘর বানিয়ে রেখেছে। আবার অনেক জায়গায় রাজনৈতিক দলের পরিচায় দিয়ে া এসব যাত্রীছাউনি ভাড়া দিয়ে টাকা তুলছে। বিষয়টি রাসিক কর্তৃপক্ষের খোজ খবর রাখার কথা থাকলেও তা দেখা হচ্ছে না। গত দুই বছর যাবৎ এসব ছাত্রী ছাউনি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে থাকলেও রাসিক দেখছে না।

সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু (বর্তমান ভুমিমন্ত্রী) সিটি করপোরেশন এলাকার বাস স্ট্যান্ড, বাস স্টপ, কোর্ট ও গুরুত্বপুর্ণ মোড়ে ৪৫টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করেছিলেন। দুরদূরান্ত থেকে লোকজন রাজশাহী নগরীতে কাজে এসে এই যাত্রী ছাউনিগুলোতে বসে বিশ্রাম নিতেন। ঝড়ঝাপ্টা, বৃষ্টির সময় লোকজন আশ্রয় নিতেন এসব যাত্রী ছাউনিতে। কিন্তু ২০০৮ সালের পর থেকে একে একে দখল হতে থাকে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নির্মাণ করা যাত্রী ছাউনিগুলো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় প্রভাবে দখল হয় যাত্রী ছাউনিগুলো। প্রথম দিকে ২০১২ সাল ও পরে ২০১৭ সালের দিকে ১৩টি যাত্রী ছাউনি পাকাপোত্তভাবে লিজ দেয় রাসিক। অবশিষ্ট যাত্রী ছাউনিগুলো চলে যায় আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে। দখলের পর অনেক চেষ্টা করেও যাত্রীছাউনিগুলো উদ্ধার করতে পারেনি রাসিক। কারণ হিসাবে দেখা গেছে যারনা যাত্রীছাউনিগুলো দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন তারা সবাই সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামানের লোকজন। এমন কি আওয়ামী লীগের পদধারণ করেও যাত্রী ছাউনি দখল করা হয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেশ কিছু যাত্রী ছাউনির দোকানপাঠ সাধারণ জনতা ভেঙ্গে দখলমুক্ত করেন। আর যেগুলো দখলমুক্ত হয়নি সেগুলো দখলদার পরিবর্তন হয়ে দখলেই থেকে গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর কেন্দ্রীয় উদ্যান চিড়িয়াখানার সামনে রয়েছে যাত্রী ছাউনি। এই যাত্রী ছাউনির একটি অংশ ৩৫ বছর আগে লিজ (ভাড়া) নিয়েছেন জিয়াউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি সেখানে মোবাইলের রিচার্জ ও অন্যান্য কাজ করে থাকেন। পাশের ফাঁকা অংশটুকু আওয়ামী লীগের সময় সাটারগেট লাগিয়ে দোকানের আকৃতি দেয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগের লোকজন রাসিক থেকে ভাড়া না নিয়েই সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলে এই যাত্রী ছাউনি রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে পুনরায় দখল করেন মামুন ও তোরু নামে দুই ব্যক্তি। তারা দুইজন ওই যাত্রীছাউনিটি দখল করে আছেন। লিজ নিয়ে ব্যবসা করা জিয়াউদ্দিন জানান, তিনি লিজ নিয়ে আছেন, কিন্তু বাকিরা লিজ নিয়েছেন কিনা তার জানা নেই।

রাজশাহীর নির্বাচন অফিসের পাশে রয়েছে একটি যাত্রী ছাউনি। এই যাত্রী ছাউনিতে তিনটি দোকান রয়েছে। একটি ফ্রিজ, একটি কমপিউটার ও একটি মোটরসাইলের সার্ভিসিং দোকান করা হয়েছে। তিনটি দোকানের মালিক ছিলেন বেলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। তিনি মুলত একটি দোকান ব্যবহার করে বাকি দুটো ভাড়া দিয়ে টাকা তুলতেন। মোটরসাইলের সার্ভিসিং দোকানের মালিক শাহিন ও অপরটির মালিক রেজাউল নামে এক ব্যক্তি। মোটরসাইলের সার্ভিসিং দোকানদার শাহিন বলেন, তিনি লিজ নিয়ে সেখানে নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এটি আর লিজের মধ্যে নেই। রাজনৈতিক ব্যক্তি চন্ডিপুরের রানা নামে একজন তাকে সেখানে থাকতে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই যাত্রী ছাউনি নিয়ে দুপক্ষ দুদিকে অবস্থান নেয়ার পর রানা ভাইয়ের সেল্টারে তিনি সেখানে মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ের কাজ করেন।

এদিকে নগরীর সিএনবি মোড়ে রয়েছে একবটি যাত্রী ছাউনি। এই যাত্রী ছাউনি ভেতরে পান, বিড়ি সিগারেট ও চা-এর স্টল বসিয়েছেন রিপন নামে এক ব্যক্তি। যাত্রীছাউনির নিচের ফাঁকা অংশে কালাইয়ের রুটির দোকান দিয়েছেন এক নারী। যদিও ওই নারী রিপন নামে ওই ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে দোকানটি বসিয়েছেন। রিপন রাজনৈতিক নেতা ধরে ওই জায়গাটি নিয়েছেন। তার চা, সিগারেটের দোকান দেয়ার পর অবশিষ্ট যেটুকু জায়গা রয়েছে সেখানে কালাইয়ের রুটির দোকানদার চেয়ার টেবিল দিয়ে রমরমা ব্যবসা করছেন। তবে তারা কেনো যাত্রী ছাউনির মধ্যে দোকান বসিয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কথা বলেননি। বরণ নগরীর কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করেছেন।

রাসিকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম জানান, বিষয়টি রাসিক প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে দ্রুত যাত্রী ছাউনিগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার চেষ্টা করবো। তবে এ বিষয়ে জানতে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সাথে তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট