রাজশাহীতে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক, ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা
ওমর ফারুক:
সবুজে ঘেরা শস্যভাণ্ডার খ্যাত রাজশাহীতে আসন্ন আমন মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি। আর এই বিশাল পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন করে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৩৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরমধ্যে মতিহার থানায় ২৭ হেক্টর, বোয়ালিয়া থানায় ১২ হেক্টর, পবা উপজেলায় ৯ হাজার ১৩৪ হেক্টর, তানোর উপজেলায় ২১ হাজার ৯৮০ হেক্টর, মোহনপুর উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর, বাগমারা উপজেলায় ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর, দুর্গাপুর উপজেলায় ৫ হাজার ৮৩০ হেক্টর, পুঠিয়া উপজেলায় ৭ হাজার ৩৯৫ হেক্টর, গোগাদাড়ী উপজেলায় ২৩ হাজার ৭৬২ হেক্টর, চারঘাট উপজেলায় ৫ হাজার ৪৪৫ হেক্টর ও বাঘা উপজেলায় ২ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন রোপন হবে। এরমধ্যে ইতিমধ্যে ৩১ হাজার ৩৫৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে।
উপজেলাগুলোতে মাঠপর্যায়ে এখন চলছে জোর প্রস্তুতি। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কৃষকরা—সবাই নিজ নিজ জমিতে বীজতলা তৈরি এবং জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত দিকনির্দেশনার ফলে এ অঞ্চলের কৃষিতে এখন এক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। চাষাবাদের প্রতিটি ধাপে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকায় এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রোগমুক্ত ও উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন করে আমন চাষ শুরু করা, মাটির স্বাস্থ্য ও পুষ্টিগুণ বজায় রেখে পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি অনুকূল আবহাওয়া বজায় রাখা এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ফলন বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তরুণ উদ্যোক্তা এবং অভিজ্ঞ কৃষকদের যৌথ অংশগ্রহণে আধুনিক কৃষিকাজ এখন রাজশাহীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতি এনেছে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার আনিস নামের এক কৃষক বলেন, বৃষ্টি বেশি হওয়ার পরপরই আমরা আমন ধান রোপণ শুরু করেছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই সকল আমন ধান রোপন করা সম্ভব হবে।
বাগমারা উপজেলার শহীদ নামের কৃষক বলেন, প্রথমে পানি কম থাকাই ধান লাগানো সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি বাড়ার সাথে সাথে আমন রোপনের কাজে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন ধান লাগানোর কাজে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ায় শ্রমিক কম পাওয়া যাচ্ছে। আবার পেলেও বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে।
সচেতন কৃষকরা মনে করছেন, আমন আবাদের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তা শুধু জেলার খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি উৎসাহ নিয়ে উৎপাদনে যুক্ত হবেন। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি এবং কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ সফল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, ইতিমধ্যেই রাজশাহী জেলায় ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপন করা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাকি আমন রোপন করা সম্ভব হবে। ভালো ফলন ফলাতে কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাষ করা গেলে ধান রাজশাহীর চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে।
