বাগমারায় ডিস ব্যবসা নিয়ে পাল্টা যুবদলের সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা
রাজশাহীর বাগমারায় যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের উপর হামলা ও মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে নিজের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। গতকাল বুধবার বিকেলে সাড়ে তিন টায় বাগমারা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে আসামীদের গ্রেপ্তার ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর আগে একই ভাবে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ রাজশাহী শহরের একটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম গতকাল বাগমারা প্রেসক্লাবে তার অনুসারীদের নিয়ে দাবি করেন গত ১৭ জুলাই রাতে গোয়ালকান্দি বাজারে তার ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে কাজ করছিলেন। ওই সময় তার প্রতিপক্ষ হামিরকুৎসা ইউনিয়নের তালঘরিয়া গ্রামের মহিলা ডিস ব্যবসায়ী ফাহিমা আক্তার ছাত্রদল নেতা পারভেজসহ বেশ কিছু লোকজন নিয়ে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই মহিলা ডিস ব্যবসায়ী ফাহিমা আক্তারের নির্দেশে ফাইমার ছেলে শাওন, সুমন ও পারভেজসহ ছাত্রদলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা তার উপর হামলা চালাই। তাদের হামলায় তিনি ( যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম) মারাক্ত আহত হন। হামলাকারীরা তার অফিসের জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে চলে যায় বলে তিনি সাংবাদিক সম্মেনে দাবী করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ওই ঘটনায় যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে মহিলা ডিস ব্যবসায়ী ফাহিমা আক্তার ১১ জনের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ কোন আসামীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলার পর থেকেই আসামী তাকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। অবিলম্বে আসামীদের গ্রেপ্তার না করলে যে কোন সময় তারা ডিস ব্যবসায়ীর উপর হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা ধরনের সমস্যায় রয়েছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের মাঝে তুলে ধরেন। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি ।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভবানীগঞ্জ পৌর যুবদল নেতা জহুরুল ইসলাম, মকলেছুর রহমান মুকুল, মুনসুর রহমান, রায়হান শেখ, গোলাম হোসেন, এমরান আলী, সামসুর রহমান, আসাদুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, ফিরোজ উদ্দিন, খলিলুর রহমান, জুয়েল রানা, শাহিন প্রমুখ।
অপর দিকে হামলার ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত ফাহিমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডিস ব্যবসা নিয়ে আসাদুল ইসলামের সাথে আমাদের একটি ঝামেলা চলছিল। ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় ঝামেলাটি মিমাংসার জন্য তার অফিস গোয়ালকান্দি বাজারে যায়। সেখাসে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন। ওই সময় আমার লোকজনের সাথে তার একটু ধাক্কাধাক্কি হয়। হামলা ও লুটপাটের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান। এছাড়া তিনি আসাদুল ইসলামের সাথে ডিস ব্যবসার যে সম্পর্ক ও তার দাবি ভিত্তিহীন। আসাদুল ওই ডিসলাইনের কেউ না। গত দুবছর আগে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় সে জোর পূর্বক আমার লাইন দখল করে। পর পর আমি র্যাব , পুলিশ, ও সেনাবাহিনীর কাছে গিয়ে বিষয়টির অভিযোগ করি। বিভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে বসার কথা তিনি এড়িয়ে যান। এই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুলাই ওই ঝামেলা মিটাতে গেলে আসাদুল ও তার অনুসারীরা আমাকে লাঞ্চিত করে। পরে তার আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আসামীদর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি ।
