বাগমারায় আমের আশানুরুপ দাম পাচ্ছেন না চাষীরা
আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা:
রাজশাহীর বাগমারা ও তার পাশ্ববর্তি এলাকায় এবারে আমের ফলন কম হবার পাশাপাশি দামও কম। আমের দাম ও ফলন কমে আমচাষিদের বেহাল দশা। আমচাষে আবহাওয়া অনুকূলে না হওয়ায় ফলন কম হয়েছে। বর্তমানে বাজারে যে পরিমান আম আসছে তা বেচা-কেনা তেমন নেই। একদিকে কম ফলন অন্য দিকে ক্রেতা কমে থাকায় আমচাষীরা বেকায়দায় পড়েছেন। গুটি আমের পর লোকনা, নেংড়া, খিরসা ও হিমসাগর আম বেচা-কেনা চলছে। বাজারে প্রতি বছরের জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি হতে এলাকার বাজারে ও পথে-ঘাটে আম উঠছে। কিন্তু আমের ব্যাপারী (ক্রেতা) নেই। ফলে যারা আমচাষের উপর নির্ভরশীল তার আমে দুই ভাবেই লোকশান গুণছেন।
জানা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চল নামে খ্যাত রাজশাহীর বাগমারা ও তার পাশ্ববর্তি এলাকায় প্রচুর পরিমান সুস্বাদু আমচাষ হয়ে থাকে। এলাকার আমের চাহিদা মিটিয়ে এলাকার আম বাইরে রপ্তানি হয়ে থাকে। এলাকার আমচাষিরা মওসুমের আম বিক্রি করে সারা বছরের আয়-রোজগার করে রাখেন। কিন্তু এ বছর বাইরের কোন ক্রেতা নেই। স্থানীয় ভাবে খিরসা, লোকনা, নেংড়া ও হিমসাগর বাজার মূল্য প্রকার ভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে হরেক রকম আম থাকলেও ভেজাল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, আম রুপালী ও বারি ফোরসহ বেশ কিছু আম এখনো পাকার সময় হয়নি। তবে যে পরিমান আম বাজারে মিলছে তা ক্রেতা সংকটে বিক্রি হচ্ছে ডিলে-ঢালা।
এমনিতেই আমের ফলন কম তারপর আবার দাম কম। এতে আমচাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। উপজেলার বালানগর গ্রামের আমচাষী ওমর আলী, এরশাদ আলী, মোফাজ্জল হোসেনসহ কয়েকজন জানান, প্রতি বছর আম বিক্রি করে যে টাকা পান তা দিয়ে সারা বছর তারা সংসার চালান। এবারে বাগানে তেমন আম নেই। যে আম আছে, তা বিক্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। কয়েকজন আমচাষি ব্যবসায়ীদের বরাদ দিয়ে জানান, বাগানের বেশী ভাগ গাছে আম কম, কম আম নামাতে যে পরিমান শ্রমিক খরচ হবে তাতে আমে লাভ হবে না বলে তারা না করছেন। এতে করে আমচাষীরা লোকশান গুণছেন বলে জনিয়েছেন।
এ ব্যপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমের চাহিদা কম। এছাড়া আম যে একে বারে ফলন কম তা বলা যাচ্ছে না, কেন না এখনো বাজারে পুরা আম আমদানী শুরু হয়নি। পুর আম আসা শুরু হলে আমের দাম আরো কমে যাবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরের দেশে আম রপ্তানির ব্যবস্থা বাড়লে আমচাষিরা লাভবান হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
