চারঘাটে আমের ভরা মৌসুমেও চাষির কান্না

মাইনুল হক সান্টু, চারঘাট:

ভরা মৌসুমে গাছে ঝুলছে আম। বাম্পার ফলনের আনন্দ থাকার কথা ছিল আমচাষিদের মুখে। কিন্তু বাস্তবে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। নায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা অন্যদিকে বাজারে উঠানামা ও বিক্রির অনিশ্চয়তায় লোকসানের আশঙ্কায় আম কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রজাতির আম উৎপাদনকারী অঞ্চল এই চারঘাট উপজেলার আমের বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে আমের ভরা মৌসুমেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় চাষীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। দ্রুত বাজার স্থিতিশীল না হলে ও নায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আমচাষীরা। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়ের স্বার্থে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চারঘাটের গোপালপুরের আম চাষী জুবায়ের জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে।  প্রত্যাশিত দাম থাকায় উৎপাদন খরচ উঠানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

স্থানীয় আম বাগান ক্রেতা থানাপাড়া গ্রামের হারুন জানান, বাজারে আমের চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী কম। অন্যদিকে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সংরক্ষন এর অভাব এবং বাজারে দামের অস্থিরতার কারণে আম কিনে মজুত বা দুরবর্তী জেলায় পাঠাতে ঝুঁকি নিচ্ছেন না তারা। অনেক ক্ষেত্রে গাছ থেকে আম সংগ্রহ, শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ও পরিচর্যা খরচ মেটানোর পরও লাভ তো দুরের কথা মুলধন ফিরে পাওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়েও কাজ চলছে। উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে যে সকল কৃষকরা আম চাষ করছেন তাদেরকে নায্য দাম পাওয়ার লক্ষ্যে অনলাইন ও সুপারশপ এর মাধ্যমে আম বিক্রয়ের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট