বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে গ্রাম আদালত কার্যক্রম শক্তিশালী করার আহ্বান
স্টাফ রিপোর্টার
গ্রামীণ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দ্রুত ও সহজে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ফৌজদারি ও দেওয়ানি ধরনের ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে জনবান্ধব করা সম্ভব, যেখানে গ্রাম আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে যাবে এবং উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে। তিনি আরও বলেন, নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি জনগণ যেন আইন নিজের হাতে না তুলে নেয়, সে জন্য গ্রাম আদালতের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার শাখার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) উপপরিচালক মো. মহিনুল হাসান। তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ সময় তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর-মার্চ সময়কালের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা দেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আবছার সবুজ। সভায় প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান গ্রাম আদালতের সুবিধাভোগীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ভিডিও উপস্থাপন করেন। এছাড়া প্রকল্প সমন্বয়কারী মারুফ আহমেদ বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে গ্রাম আদালত কার্যক্রমে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার তিনটি উপজেলা ও আটটি ইউনিয়নকে পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলা প্রথম, বাগমারা উপজেলা দ্বিতীয় এবং পুঠিয়া উপজেলা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। পাশাপাশি গোবিন্দপাড়া, নিমপাড়া, বানেশ্বর, পারিলা, দেলুয়াবাড়ী, নওপাড়া, তালন্দ ও দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদকে পুরস্কৃত করা হয়।
