জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিদায় ঘটেছে। এ দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এতটা দানবীয় শক্তি হয়ে ওঠার নেপথ্যে কাজ করেছে ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির ক্রীড়নক চাটুকার-তেলবাজ চক্র। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারপাশ ঘিরে থাকা এসব চাটুকার তাকে জনবিচ্ছিন্ন ও গণবিরোধী শক্তিতে পরিণত করেছিল। বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম হিসেবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্রে অধিষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক আছেন। তাঁকে তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ়তা প্রদর্শন করলেও সবকিছু তার নখদর্পণে থাকবে, এমনটাও আশা করা যায় না। ইতোমধ্যে বেশকিছু বিচ্চুতি বা ব্যত্যয় লক্ষ করা যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উৎযাপন উপলক্ষে ৫ আগস্ট রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানের প্রামাণ্যচিত্রে শহীদ আবু সাঈদকে বাদ দেয়ার মতো অসঙ্গতি এবং একদফার প্রস্তাবক হিসেবে তারেক রহমানকে উপস্থাপনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থলে যে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল দেখা দিয়েছিল তা খুবই অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজউদ্দিন আহমেদ ঘটনার জন্য দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের যে ডক্যুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই তা কোনো ডক্যুমেন্টারি নয়। ডক্যুমেন্টারিতে ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে এনসিপি নেতাকর্মীদের বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এবং সরকারি দলের নেতাকর্মীদের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে বিদেশি কূটনীতিক ও অতিথিরা নিরাপত্তাহীনতার অজুহাত দেখিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা জাতীয় ঐক্য, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মাণ করেছে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই যাদুঘর থেকেই আমরা আগামীর পথ খুঁজে নিবো। যারা তুচ্ছ বিষয়কে সামনে রেখে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সরকারকে দুর্বল ও বেকায়দায় ফেলতে চায়, তারা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিতে চায়। স্পিকার হিসেবে হাফিজউদ্দিন আহমেদ যেভাবে সংসদে আস্থা ও নিরপেক্ষতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের প্রতি দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করছেন। দিল্লিতে অবস্থানরত পতিত স্বৈরাচার, তার দোসর ও আশ্রয়দাতারা বাংলাদেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা দেখতে চায় না। তারা অভিন্ন উদ্দেশ্য সামনে রেখে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার জুলাই হত্যাকা-, বিডিআর হত্যাকা-, শাপলাচত্বর হত্যাকা-সহ বিগত সময়ে সংঘটিত গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব বানচাল করতেই পতিত স্বৈরাচার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুলাই বিরোধী প্রচারণা ও জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতারা এ বিষয়ে সচেতন থাকলেও সরকারের চাটুকার ও একশ্রেণীর নেতাকর্মীর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার আলামত দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন, আস্থা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের শাসকরা ঘৃণ্য রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান দিবসে সবাই যখন স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করছেন, তখন ভারত সরকার বাংলাদেশে গণহত্যার দায়ে দ-িত শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দিয়ে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ আর কখনোই আগের অবস্থানে ফিরে যাবে না। শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে দিল্লির প্রতি বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। প্রতিবাদ লিপিতে শেখ হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য অবমাননা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আওয়ামী বিরোধী জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার অভিন্ন অবস্থান জাতিকে আশান্বিত করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ কখনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। তার সুরে সুর মিলিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো রাষ্ট্রের প্রতি নতজানু বা ক্লায়েন্ট স্টেট হবে না। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা জাতিকে শঙ্কিত করে তুলছে। একদিকে দিল্লি থেকে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা, অন্যদিকে দেশে সরকারিদল ও বিরোধীদলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে মারামারি, হুমকি ও অস্থিতিশীলতার চিত্র কারো জন্যই সুখকর নয়। এসব হুমকি-ধমকি পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের জাতীয় প্লাটফর্ম নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ, এ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।ঊীবপঁঃরাব ইৎধহপয
