বগুড়া ও সিলেটে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৭, আহত ৫০
ছুটির দিনের সকালে দেশের দুই জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। বগুড়া ও সিলেটে পৃথক দুটি বাস দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর থেকে সকাল ৭টার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
বগুড়ায় বাসচাপায় ৮ শ্রমিক নিহত
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকার সিল্কিবান্ধায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথের পাশে অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে অন্তত ৮ জন নিহত এবং আরো ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ও নূর আলমের নাম জানা গেছে।
নিহত ও আহত সবাই কাজের সন্ধানে ভোরে এরুলিয়া বাজারে বসা শ্রমিকের হাটে এসেছিলেন। রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুররা প্রতিদিন ভোরে এই হাটে কাজের সন্ধানে আসেন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই শ্রমিক সংগ্রহ করেন।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, সকালে ঢাকা থেকে নওগাঁর উদ্দেশে ছেড়ে আসা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় সড়কের পাশে অবস্থানরত দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর বাসটি উঠে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়, পরে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ দুর্ঘটনায় মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত সাতজনেরই নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোঁড় মধ্যপাড়ার বেল্লাল হোসেন (৪০), কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদার পাড়ার নুর মোহাম্মদ সরদার (৭৫), জয়পুরহাটের কালাই থানার মো: আনারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবি থানার আমিরুল (৪০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাইদ (৪৫), একই উপজেলার নুর আলম (৪৫) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো: তাজিমুল (৪৭)।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নিতে যান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার মনোয়ারুল কাদির বিটু। হাসপাতালের পরিচালককে সাথে নিয়ে রোগীদের দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই এক্সিডেন্টের খবরে অনেক উদ্বিগ্ন। আমি খবর পেয়েই দ্রুত এখানে ছুটে এসেছি। আহতদের মধ্যে অনেকের মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আইসিইউতে থাকা একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক আরো জানান, ‘যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব, দেয়া হয়েছে। ওষুধপত্র যা লাগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দেখবে এবং রক্তের প্রয়োজন হলেও সেটার জোগান এখান থেকে দেয়া হবে। প্রয়োজন অনুসারে রোগীদের ঢাকায় রেফার করা হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথেও কথা হয়েছে, তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।’
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বাসসকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা দেয় এবং পরে শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।’
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯
অন্যদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেঙ্গল পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাস দয়ামীর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের বেশির ভাগও একই বাসের যাত্রী। এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত যাদের পরিচয় মিলেছে তারা হলেন, সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটের উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের শিশুকন্যা খোজাইফা (৩), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবী। নিহতরা ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন বলে যানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দুই বাসের সংঘর্ষের পর হতাহতদের অবস্থা দেখে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার জন্য তারা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটিকে দায়ী করছেন। সূত্র: দেশ রূপান্তর
