সম্পাদকীয়

ভেজাল খাদ্য ও পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

আমরা প্রতিদিন কি খাচ্ছি, এ প্রশ্ন বহু বছর ধরেই করা হচ্ছে। সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের শিরোনামও করা হচ্ছে। প্রতিবেদন থেকে যা জানা যায় তা হচ্ছে, আমাদের প্রতিদিনের আহারে-ব্যবহারে যেসব খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য গ্রহণ ও ব্যবহার করি, তার প্রায় সবই ভেজালযুক্ত। এমন কোনো খাদ্য ও পণ্য নেই যাতে ভেজাল নেই। মাছ, গোশত, তরিতরকারি, ফল-মূল, তেল, মশলা, দুধসহ শিশুখাদ্য এমনকি যে টুথপেস্ট ব্যবহার করা হয়, তাতেও ভেজাল রয়েছে। এইসব ভেজাল-নকল খাদ্য ও পণ্য গ্রহণ ও ব্যবহার করার কারণে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে জীবনবিনাশী রোগে। ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়বেটিস, কিডনী, ফুসফুসের রোগসহ নানা ধরনের জটিল রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে। ভেজাল খাদ্য খেয়ে শিশুদের সুস্থ বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। রোগবালাই নিয়েই তারা বেড়ে উঠছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জীবনের শুরুতেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মানুষের যে গড় আয়ু, তা কমে যাচ্ছে। গতকাল দৈনিক ইনকিলাবের খাদ্যপণ্যে ভেজাল নিয়ে তথ্যবহুল এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে খাদ্যে ভেজাল নিয়ে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে আঁৎকে উঠতে হয়। আমরা কী এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আছি। যে পণ্যেই হাত দেয়া হোক না কেন, সেটাতে কম-বেশি ভেজাল রয়েছে। বিশুদ্ধ খাদ্য ও নিত্যব্যহার্য পণ্য বলতে কিছু নেই। আমাদের দেশে জীবনধারনের খাদ্যপণ্য কবে বিশুদ্ধ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাজার যেভাবে ভেজালখাদ্যে সয়লাব হয়ে আছে, তা থেকে মুক্তির কোনো উপায় জানা নেই। অথচ খাদ্যে ভেজাল রোধে সিটি করপোরেশন, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের যে বাজার তদারকি ও ভেজালবিরোধী অভিযান নেই এবং কোনো কাজ করছে না, তা দেদারছে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা থেকেই বোঝা যাচ্ছে। বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ভেজাল খাদ্যপণ্য তাদের জ্ঞাতসারে থাকলেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কখনো দেখা যায় না। এমনকি, নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করতেও দেখা যায় না। তাহলে তারা কি কাজ করছে, তাদের কাজটা কি? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বিশুদ্ধ পরিবেশ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন, তার প্রভাব দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ওপর পড়ছে বলে মনে হয় না। তাদের মধ্যে কোনো বিচলন দেখা যাচ্ছে না। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর তাকিদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়াচ্ছে না, সেখানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে কীভাবে? আমরা মনে করি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা জরুরি। ছোট-বড় যে প্রতিষ্ঠান ভেজাল পণ্য উৎপাদান করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাঠ পর্যায়ে ভেজাল খাদ্য ও পণ্য শনাক্তে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে ভেজাল খাদ্যবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। ভেজাল খাদ্য চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া জানাতে হবে।
 

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট