অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে
দেশের অর্থনীতিবিদসহ সচেতন মহলের জানা, বিএনপি সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত একটি ভঙুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। স্বৈরাচার হাসিনা দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করে পালিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার তার দেড় বছরের শাসনামলে অর্থনীতিকে চাঙা করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তলানিতে থাকা অর্থনীতি আরও নিম্নগামী হয়েছে। এমন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি দুই-তৃতীয়ংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। দায়িত্ব নিতে না নিতেই ইরানযুদ্ধ অর্থনীতিতে প্রচ- ধাক্কা হয়ে এসেছে। সরকার এক টালমাটাল অবস্থার মধ্যে পড়েছে। এমতাবস্থায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতা এবং দূরদর্শী চিন্তা ও পরিকল্পনা দিয়ে অর্থনীতির অবনতি ঠেকিয়ে কীভাবে স্থিতিশীল করা যায়, তার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সমুদ্রে উত্তাল ঝড়ের মধ্যে দক্ষ ক্যাপ্টেনের মতো হাল ধরেছেন। জাতীয় সংসদে বাগাড়ম্বর না করে কিংবা তথাকথিত অর্থনেতিক উন্নয়নের বানোয়াট পরিসংখ্যান তুলে না ধরে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন। দেশের মানুষকে জানিয়েছেন, দেশ ঋণে জর্জরিত। বিগত স্বৈরাচারী সরকার লুটপাট ও অর্থপাচার করে দেশের উপর প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে। ঋণের এই বোঝা নিয়েই তার সরকার যাত্রা শুরু করেছে। শোচনীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকারের উদ্যোগ ও চেষ্টার কমতি নেই। যথাযথ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন করতে পারলে ভঙুর অর্থনীতি দ্রুতই মেরামত করা যাবে। এজন্য ব্যবসাবান্ধব নীতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারিদের আকৃষ্ট করার জন্য যা করার দরকার তাই করতে হবে। তাদের বিনিয়োগের নিশ্চয়তা দিতে হবে। আশা করা যায়, সরকারের চিন্তার মধ্যে এগুলো রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে যেসব উপলক্ষ ও কার্যক্রম অর্থনীতিকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখে, সরকারকে আগে সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। ঈদের বড় ও নগদ অর্থনীতির বাজারকে সুসংহত করতে হবে। কুরবানির পশু ব্যবসায়ী, খামারিরা যাতে প্রকৃত দাম পায়, পশু আনা নেয়ার ক্ষেত্রে যাতে চাঁদাবাজির শিকার না হয় এ ব্যাপারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে উৎপাদিত গরু দিয়ে যাতে কুরবানি হয়, সেটা নিশ্চিতে ভারতীয় গরুর আমদানি ও অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে চামড়া ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ভারতে চামড়া পাচার না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের ঈদযাত্রা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে তাদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তা-ঘাট, সড়ক-মহাসড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও যানজটমুক্ত রেখে মসৃণ রাখতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে হবে। সামগ্রিক অর্থনীতিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে সরকারকে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষের আয় যাতে বাড়ে এবং জীবনমান উন্নত হয়, এ ব্যবস্থা করতে হবে।
