শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ইস্যু রাজশাহীতে বাস চলাচল বন্ধের কারিগর শ্রমিক নেতা পাখি
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকদের একটি অংশ। জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গত সোমবার রাত ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে বাস বন্ধের এ ঘটনাকে শ্রমিকরা শ্রমিক নেতাদের দোষারোপ করছেন। মূলত শ্রমিক নেতা পাখির কারণেই এই বাস ধর্মঘট বলে দাবি করেছেন শ্রমিক। এছাড়াও এর সাথে বাস মালিকরাও জড়িত রয়েছে এমন অভিযোগও করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী বাসন টার্মিনাল থেকে দুরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এমনকি সকল বাসের কাউন্টারও বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কিছু কিছু বাস কাউন্টার খোলা রাখা হয়। কাউন্টার খুলে রেখে মূলত যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। আর দুরদুরান্তে যাওয়া যাত্রীরা সকাল থেকে বাসস্ট্যান্ডে এসে অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। হঠাৎ করে বাস বন্ধ করে দেয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যায়।
শ্রমিকরা বলছেন, শ্রমিক নেতা পাখি নির্বাচন দিতে চায় না। তিনি শ্রমিক নেতা হলেও শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ করেন না। তিনি নিজের পকেট ভরা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। বাস চললেও পাখি টাকা পান না চললেও তিনি টাকার ভাগ পান। শ্রমিকরা বলছেন পাখির নেতৃত্ব আমরা চাইনা। আমরা চাই পাখিমুক্ত শ্রমিক ইউনিয়ন।
শ্রমিকদের দাবি সংগঠনের সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। তবে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ সভা সম্ভব নয় বলে জানান। এজন্য প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি নির্বাচনি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একাংশ সভা থেকে বেরিয়ে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন।
শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে কয়েক মাস ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। নির্বাচন দাবিকারী শ্রমিকদের ওপর গত ২৩ এপ্রিল হামলার ঘটনাও ঘটে। পরে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করলে তা প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একটি অংশ কয়েক দফা ধর্মঘট পালন করে। তখন জেলা প্রশাসনের আশ্বাস ছিল, ঈদের পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিকদের আশ্বাস দেয়া সড়ক পরিবহণের নেতা নজরুল ইসলাম হেলাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে শিরোইল বাস টার্মিনালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, সাধারণ সভার মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনই সুষ্ঠু নির্বাচনের একমাত্র উপায়। তিনি আরও দাবি করেন, নজরুল ইসলাম হেলাল মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হওয়ায় শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনি কমিটিতে থাকা উচিত নয়।
এদিকে রাত ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ নিয়ে বসার কথা রয়েছে।…………..
