রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার

চলমান তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ রাজশাহীর স্বাভাবিক জনজীবন। মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহত এই তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। বিশেষ করে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। গরমে শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

গত কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সূর্যের প্রখর রোদ থাকছে। এ কারনে খেটে খাওয়া দিনমজুররা বেশি সময় ধরে মাঠে থাকতে পারছে না। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে মৌসুমের অন্যতম উষ্ণতম দিন পার হয়েছে। গতকাল এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগের দিন সোমবারও আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রায় একই রকম ছিল। ওইদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুই দিন একই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করায় তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।

তীব্র দাবদাহের কারণে দিনের বেলা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ। কাঠফাটা রোদে তাদের আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে।

রহিদুল নামের এক দিনমজুর বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রচুর গরম পড়ছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমস্যার মধ্যে আছি। বেশি সময় কাজও করতে কষ্ট হচ্ছে। কাজ না করলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই যত কষ্টই হোক কাজ করতে হচ্ছে। রিক্সা চালক সইমুর বলেন, গরমে খুব সমস্যার মধ্যে আছি। কাজ ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছেনা। এ জন্য ভাড়াও কম হচ্ছে।

শহরের বিভিন্ন মোড়ে পথচারীদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ডাব, তালের শ্বাস ও শরবতের দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার ফলে হিট স্ট্রোক ও পানিবাহিত রোগের আতঙ্ক বাড়ছে। হাসপাতালে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের সংখ্যাও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন পান করা জরুরি। রোদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ছাতা, টুপি বা রোদচশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে সরাসরি কড়া রোদে বেশিক্ষণ অবস্থান না করার জন্য বলা হয়েছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব শিগগিরই বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে তাপমাত্রা আরও কিছুদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট