নগরীতে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে ক্রয় করা জমির দখল বুঝে পেতে বাধা, হয়রানি এবং আদালতের রায় উপেক্ষা করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর এএইচ টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহমখদুম থানার দুরুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা। আর জমি দখলকারী জাকারিয়া আল আমিন আওয়ামী লীগের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহুর অন্যতম সহযোগি বলে দাবি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে কাউন্সিলর শাহুর সাথে যোগসাজস করে অন্যের জায়গা জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে জমির দখলদার জাকারিয়া আল আমিনের দাবি তিনি বিএনপির রাজনৈতির সাথে যুক্ত।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজশাহীর বড়বনগ্রাম মৌজার নওদাপাড়া ৩১৫৯ ও ৩১৬০ নং দাগে মোট ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ (বাংলায় দুই কাঠা ৫ ছটাক) শহীদ জিয়া শিশু পার্কসংলগ্ন টিনশেড বাড়ি ও দোকানসহ একটি জমি গত ২০২৫ সালের ৫ মার্চ ক্রয় করেন তার স্ত্রী আরিফা খাতুন। যার দলিল নং ১৫৫৮/২০২৫। তিনি নিজে কিনেন দশমিক ৪৯ শতাংশ জমি। যার দলিল নং ২০২৩/২০২৫। পরবর্তীতে তার ও তার স্ত্রী আরিফা খাতুনের নামে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারি খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত দলিল ও খতিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, বড়বনগ্রাম মৌজার মোট ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ জমির মালিকানা ১৯৬০ সাল থেকে একাধিক নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হস্তান্তর হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৫ সালে জাকারিয়া আল-আমিন নিজেই জমিটি মোয়াজ্জেম হোসেন ও চাশমে আরা বেগমের কাছে বিক্রি করেন। পরে উত্তরাধিকার ও বিক্রি সূত্রে ২০২৫ সালে জমিটি আরিফা খাতুনের নামে নিবন্ধিত ও নামজারি হয়। এরপর জমির দখল বুঝে নিতে গেলে জাকারিয়া আল আমিন জমির মালিকানা দাবি করে দখল নিতে বাধা দেন। এছাড়াও ওই জমির উপর আদালতে মামলা রয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখান।
মাসুদ রানার দাবি, জমির দলিল ও খতিয়ান অনুযায়ী মালিকানার ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে জাকারিয়া আল আমিন ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে ২০০৫ সালের ২ জানুয়ারি নিবন্ধিত সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি নিজেই ওই জমি মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার স্ত্রী চাশমে আরা বেগমের কাছে বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। পরে উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটি চাশমে আরা বেগম ও তার ছেলে শহীদুল হক হায়দারীর কাছে যায়। তারা ২০২৩ সালে ফরহাদ ও ফিরোজ খানের কাছে এবং পরে ২০২৫ সালে ফরহাদ ও ফিরোজ খান ওই জমি আরিফা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন। তিনি দাবি করেন, জাকারিয়া আল আমিন জমি বিক্রি করার পরও দলিল বাতিলের মামলা দায়ের করলেও আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়ে বিবাদির পক্ষে রায় দেন। এমন কি দলিলে ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল হওয়ার অভিযোগও ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি। আদালতে উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট তার নিজের বলে আদালত বিবাদীপক্ষে রায় দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের একাধিক রায়, সরকারি রেকর্ড, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র থাকার পরও জাকারিয়া আল আমিন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দখলদার জাকারিয়া আল আমিন বলেন, আমি মাসুদ রানার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। তারা ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, জমির দলিল বাতিলের জন্য আমি মামলা করেছিলাম। জেলা জজ আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব।
