যুবদল নেতা গ্রেপ্তার: বোয়ালিয়ার ওসি প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন
রাজশাহী নগরীতে যুবদল নেতা মো. নিজাম আলীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা জানান, গত ২৩ এপ্রিল নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে বাস মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিটে নাম না থাকা সত্ত্বেও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম আলীকে গত ২৫ এপ্রিল রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে মূল আসামিকে আড়াল করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে বিস্ফোরক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তার অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করা হয়।
তারা আরও দাবি করেন, প্রকৃত আসামি ‘ড্রাইভার মিজান’কে রক্ষা করতে গিয়ে একই নামে অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যিনি পেশায় টিকিট মাস্টার ও স্থানীয় যুবনেতা। এমনকি মামলার বাদী নিজে থানায় উপস্থিত হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি প্রকৃত আসামি নন বলে নিশ্চিত করলেও তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে জবাব দাবি করেন। পাশাপাশি তারা পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে বলেন, অবিলম্বে দাবি না মানলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।Maps
মানববন্ধন থেকে গ্রেপ্তারকৃত নিজাম আলীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়। বক্তারা তাকে ‘জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা’ উল্লেখ করে বলেন, অতীতেও আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি কারাবরণ করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মো. সৈকত পারভেজ, চন্দ্রিমা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ তপন, মহানগর যুবদলের সদস্য মানিক হোসেন, শুভ, মিলন আলী, শিমুল হোসেন, হাফিজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছা. সুমি খাতুনও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওসিকে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
