রাণীনগরে বেড়েছে চুরি আতঙ্কে এলাকাবাসী

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর রাণীনগরে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে চুরির ঘটনা। চোরেরা ১০দিনের ব্যবধানে উপজেলার ৫জায়গায় হানা দিয়েছে। এসময় তারা নগট টাকা, গরু ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। ফলে চুরির আতঙ্কে দিন পার করছেন এলাকাবাসী। চোরেরা সুযোগ পেলেই দোকান ঘরে ও বাড়িতে চুরি করছে। তারা নিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান জিনিসহ মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে গরু-ছাগল। আর এই চুরিগুলো হচ্ছে কখনও দিনে দুপুরে আবার কখনও রাতে। আর এভাবেই প্রায় প্রতিনিয়ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কোথাও না কোথাও ছোট বড় চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে। কেউ অভিযোগ করছে, আবার কেউ চুপচাপ সহ্য করে আছেন। কেউ আছেন প্রতিকারের আশায়।  এদিকে ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এখন পর্যন্ত ওই সকল চোর চক্রকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। আর চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে দাবি করছেন পুলিশ। কঠোর পদক্ষেপের অভাবে এলাকায় চুরির সংখ্যা বেড়েই চলেছে বলে অনেকের অভিযোগ। ফলে এসব চুরির ঘটনা ঘটায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসি।  সর্বশেষ গত (১৩মে) বুধবার একই দিনে দুটো চুরির খবর পাওয়া যায়। এদিন সকালে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আবাদপুকুর গরু-ছাগলের হাটে কুরবানির গরু কিনতে গেলে নুরুজ্জামানের পকেট থেকে ১লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। দিনে দুপুরে এমনভাবে টাকা হারিয়ে হতবিম্ভ হয়ে যান ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান।

এর আগে মঙ্গলবার (১২মে) গভীর রাতে উপজেলার বিজয়কান্দি গ্রামে আব্দুল কুদ্দুস নামের এক দরিদ্র কৃষকের গোয়াল ঘরের তালা কেটে ৪টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। চুরি হওয়া চারটি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। পরের দিন বুধবার সকালে এই চুরির বিষয়টি জানতে পেরে দিশেহারা হয়ে যান কৃষক আব্দুল কুদ্দুস। কারণ ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস একজন দিনমজুর। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া দেড় বিঘা জমি আর অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে চলে তার পাঁচজনের সংসার। গত বছর ছোট মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা দেনা (ধার) করতে হয়েছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “দিনমজুরি করে এই  দেনা (ধার)’র টাকা শোধ করা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাই স্বামী-স্ত্রী মিলে অনেক কষ্ট করে এই গরুগুলো লালন-পালন করছিলাম। আশা ছিল ধান কাটা-মাড়াই শেষ হলেই গরুগুলো বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের সময় করা দেনা শোধ করব। কিন্তু চোরেরা আমার সব শেষ করে দিল। আমি এখন কী করে দেনা শোধ করব? এ ঘটনায় তিনি রাণীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এরপর গত রোববার (১০মে) রাতে উপজেলার আবাদপুকুর বাজারের আমিরপুর মার্কেটে আতিকুর রহমান সুমনের দোকান ঘরের জানালার গ্রীল কেটে নগদ টাকাসহ প্রায় সাত লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনাটি ঘটার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যবসায়ীদের মাঝে চুরি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দোকান মালিক আতিকুর রহমান সুমন জানান, রোববার দোকান বন্ধ করে চলে যান। এরপর সোমবার সকালে দোকানে এসে ক্যাশ ড্রয়ারগুলো এলোমেলো দেখতে পান। চোরেরা ড্রয়ার থেকে নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ৯টি টেলিভিশন, ৪টি ব্লেন্ডার, ৭টি আইরণ, ১০টি চার্জার ফ্যান, ৬টি সিলিং ফ্যান, ১৩টি রাইস কুকার, ৮টি গ্যাস স্টোভ ও ৭টি প্রেসার কুকার নিয়ে গেছে। এতে নগদ টাকাসহ মোট ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৪০ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।

এবং গত শনিবার (২মে) দুপুরে উপজেলা সদরের মাস্টারপাড়া এলাকায় আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়ির সামনে থেকে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে ১৫০সিসি আরটিআর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাটি ঘটে। আমিনুল ইসলামের বাড়ি উপজেলা সদরের মধ্য রাজাপুর গ্রামে। তিনি মাস্টারপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।  রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল মুঠোফোনে বলেন, আমরা এ বিষয়ে পুলিশী টহল জোরদার করেছি। সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে চোরদের শনাক্ত করতে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আমি ওসিকে বলে দিয়েছি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। আশা করছি খুব দ্রুতই চক্রটিকে ধরতে পারবো। এছাড়া ভূক্তভোগীদের এগিয়ে আসতে হবে। অভিযোগ বা মামলা করতে হবে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট