নওগাঁয় ৪ খুন: সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মামাকে নির্বংশ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক দম্পতি ও তাঁদের দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সবুজ রানা (২৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া অপর দুই আসামি শহিদুল মণ্ডল (৫০) ও তাঁর ছেলে শাহিন মণ্ডলকে (৩৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার বিকেলে নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সবুজ রানার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী জানান, গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। জবানবন্দিতে সবুজ রানা স্বীকার করেছেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি আগে থেকেই তাঁর মামা হাবিবুর রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে পরিকল্পনা করে মামা, মামি ও তাঁদের দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সবুজ স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে বিচারক মোনাবিল হক তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে সবুজকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং অন্য দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয়।
জানা গেছে, গত সোমবার রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন- নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাঁদের সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)। এ ঘটনায় নিহত হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল, তাঁর ছেলে শাহিন এবং ভাগনে সবুজ রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সবুজ জানান, তাঁর নানা নমির উদ্দিন জীবদ্দশায় হাবিবুর রহমানকে বেশি জমি লিখে দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে তিনি মামার সঙ্গে গরু কিনতে ছাতড়া হাটে যান। তবে গরু না কিনেই সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। পরে রাতেই শহিদুল ও শাহিনের সঙ্গে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
রাতে খাবার খাওয়ার পর সবুজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এ সময় শাহিন গোপনে বাড়িতে ঢুকে একটি কক্ষে লুকিয়ে থাকেন। গভীর রাতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাহিন মূল দরজা খুলে দেন। এরপর সবুজ, শহিদুলসহ আরও কয়েকজন বাড়িতে প্রবেশ করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে সবুজ তাঁর নানা নমির উদ্দিনের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। এরপর হাবিবুর রহমানের কক্ষে ঢুকে তাঁকে চেপে ধরেন সবুজ ও শহিদুল। এ সময় শাহিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে হত্যা করেন।
শব্দ পেয়ে পাশের কক্ষ থেকে বের হলে পপি সুলতানার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁকেও হত্যা করা হয়। একইভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় দুই শিশু পারভেজ ও সাদিয়াকেও হত্যা করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
