কৃষক সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও সমন্বিত আইন প্রয়োগ জোরদারের তাগিদ
স্টাফ রিপোর্টার
নকল, ভেজাল, অবৈধ ও অননুমোদিত কৃষি উপকরণের বিস্তার রোধে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠন, মাঠপর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি খাতের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা। বক্তারা বলেন, নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ শুধু কৃষকের আর্থিক ক্ষতিই করে না; বরং কৃষির টেকসই উন্নয়ন, জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা, পরিবেশ এবং দেশের অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল জার্নালিস্টস ফোরাম এর যৌথ উদ্যোগে গতকাল রোববার রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, কৃষক ও কৃষি অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব, আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর আঞ্চলিক সহকারী বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ আবু সাদাত মোহাম্মদ তোয়াব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনটোমলজি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. গোপাল দাস।শহর খুঁজুন
অধ্যাপক ড. গোপাল দাস তাঁর মূল প্রবন্ধে নকল, ভেজাল, অবৈধ ও অননুমোদিত কৃষি উপকরণের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ঋঅঙ), বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন (ইঈচঅ) এবং ঈৎড়ঢ়খরভব অংরধ-এর তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ করেন। তিনি এসব পণ্যের কারণে কৃষকের জীবিকা, কৃষির টেকসই উন্নয়ন, সরকারি রাজস্ব, জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট ঝুঁকি ব্যাখ্যা করেন। অনুষ্ঠানে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ প্রতিরোধে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের পথ সুগম করবে। এ উদ্যোগকে সফল করতে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পর্যায়ে থাকা কৃষি রপ্তানিকে আগামী কয়েক বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে কৃষি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।
মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নকল, ভেজাল ও অবৈধ কৃষি উপকরণের বাণিজ্য কৃষি উৎপাদনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকরা যাতে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত কৃষি উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন এবং রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক পাপিয়া রহমান মৌরি।
