নিম্নমানের ইট খোয়া ব্যবহার করার অভিযোগ দুর্গাপুরে দুই বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার কাজ, কার্পেটিং বসে সড়কে গর্ত
দুর্গাপুর প্রতিনিধি
দুর্গাপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সিংগা জিসি-গোরখাই-গগনবাড়িয়া আরঅ্যান্ডএইচ সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং বসে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রায় দুই বছর ধরে ধীরগতিতে চলা এ কাজে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির আমগ্রাম অংশের শূন্য মিটার থেকে ৭ হাজার ৪৯০ মিটার পর্যন্ত উন্নয়নকাজের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা, খিলগাঁও, ঢাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর কিছুদিন নির্মাণকাজ চললেও একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে মাঝে মাঝে কাজ শুরু হলেও ধারাবাহিকতা নেই। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি নির্মাণাধীন থাকায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা ও যানবাহন চলাচলকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের যেসব অংশে কার্পেটিং করা হয়েছে, তার কিছু অংশ ইতোমধ্যে বসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও উপরিভাগের পাথর ও খোয়া উঠে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, এখনো কাজ বাকি থাকা অংশে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসে বারবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করছেন। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বারবার অভিযোগের পরও উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে শুধু দায়সারা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে নির্মাণকাজের মান যাচাই বা তদারকিতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “রাস্তাটি প্রায় দুই বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। ঠিকাদার মাঝে মাঝে কাজ করেন, আবার বন্ধ করে দেন। তার ইচ্ছামতো কাজ করায় আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আগের কাজেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে আমরা দেখেছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা বিষয়গুলো যথাযথভাবে আমলে নেননি।”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারাধীন থাকায় বর্ষাকালে চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে কাজ শেষ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নির্মাণসামগ্রীর মান নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
এলাকাবাসী জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কৃষিপণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় যানবাহন চলাচলে নানা সমস্যা হচ্ছে।
তাদের দাবি, সড়কের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করা হোক। ইতোমধ্যে কার্পেটিং বসে যাওয়া ও গর্ত সৃষ্টির কারণও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকলে তা পুনরায় যথাযথভাবে করার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী রায়হানুল হক বলেন, “আমি রাস্তার কাজের অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী বলছেন, শুধু তদন্তের ঘোষণা নয়, দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির স্থায়িত্বও নিশ্চিত হবে।
