ইউনিয়ন উপসহকারীদের হাত করে গোডাউনে ঢোকানোর পরই হয় পাচার রাজশাহীতে ঘাটতি নেই সারের, ‘সংকট’ তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আওয়ামী ডিলারদের কারসাজি
হাবিব আহমেদ
রাজশাহীতে হঠাৎ করেই তিন ধরনের সার সংকটের গুজব রটানো হয়েছে। আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার হঠাৎ করেই গোডাউন থেকে উধাও হয়ে গেছে। এতে আমনের ভরা মৌসুমে কৃষকদের পড়তে হয়েছে চরম বেকায়দায়। ডিলারদের কাছে সার পাওয়া না গেলেও বেশি দামে মিলেছে বাইরের বাজারে। ডিলারদের কারণে কৃষিতে প্রভাব পড়ার সম্ভনা দেখা দিয়েছে।
রাজশাহীতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন ডিলাররা। ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে লাভবান হচ্ছেন বিভিন্ন সার ব্যবসায়ীরাও। মাঝখানে কৃষকরা সারের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন ডিলারদের পেছনে। কৃষকরা বলছেন, কৃষি কর্মকর্তাদের দেখভালের অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে যেসব উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের রাখা হয়েছে তারাও ডিলারদের সৃষ্টি করা কৃত্রিম সার সংকটের অনৈতিক কাজের সহযোগি। তবে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা বলছেন, রাজশাহীতে কোনো ধরনের সারের ঘাটতি নেই। বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এক শ্রেণির ডিলাররা সার বাইরে বিক্রি করে নিজেরাই এ সংকট তৈরি করেছেন।
জানা গেছে, রাজশাহীতে ২১৬ জন সার ডিলার রয়েছেন। এরমধ্যে বিসিআইসি ডিলার রয়েছেন ৮৬ জন ও বিএডিসি ডিলার রয়েছেন ১৩০ জন। গত আগস্ট মাসে রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার এসব ডিলারদের বিপুল পরিমাণ সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব ডিলাররা যোগসাজস করে সার করে সংকট সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে কৃষি বিভাগ অভিযানও চালিয়েছে কিন্তু কোন কাজে আসেনি। মূলত উপজেলা কৃষি অফিসারদের তদারকির অভাবে এমন উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে রাজশাহীর পবা, মোহনপুরের কিছু কিছু এলাকা, তানোর ও বাগমারার কিছু এলাকা ছাড়া কোথাও সারের ঘাটতি নেই। যা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলোআপ ভাবে সংবাদ পরিবেশন হয়েছে। যার কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালককে বদলী করা হয়েছে। তবে সরজমিন ঘুরে সারের সংকটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যাপক তথ্য উঠে এসেছে।
রাজশাহী কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে রাজশাহীর পবা উপজেলার ২২ জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ২১০ মেট্রিকটন, এমওপি ২১৫ মেট্রিকটন ডিএপি ১৮৭ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তানোরে ৩১ জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ১৫০ মেট্রিকটন, এমওপি ৩৫০ মেট্রিকটন ও ডিএপি ২৪৯ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মোহনপুরে ২৫ জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ৮০ মেট্রিকটন, এমওপি ১১০ মেট্রিকটন ও ডিএপি ১৯৭ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ হয়েছে। বাগমারা ৩৩ জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ১৬৫ মেট্রিকটন, এমওপি ১৫০ মেট্রিকটন ও ডিএপি ২৪৪ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুর্গাপুরে ২১ জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ৮৫ মেট্রিকটন, এমওপি ১৪৫ মেট্রিকটন ও ডিএপি ২৫৯ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পুঠিয়া উপজেলায় ২১ জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ১৫০ মেট্রিকটন, এমওপি ১৯৫ মেট্রিকটন ও ডিএপি ১৮৩ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলায় ২৭ জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ৩০০ মেট্রিকটন, এমওপি ২৭৫ মেট্রিকটন ও ডিএপি ৪৮৬ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চারঘাট উপজেলায় ২২ জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ১৫০ মেট্রিকটন, এমওপি ১৩০ মেট্রিকটন ও ডিএপি ২১৭ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাঘা উপজেলায় ১৫জন ডিলারের মধ্যে টিএসপি ২০০ মেট্রিকটন, এমওপি ১৬০ মেট্রিকটন ও ডিএপি ৩০৯ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী মহানগরীতে তিনজন ডিলার রয়েছে। এরমধ্যে বোয়ালিয়া একজন ডিলারকে দেয়া হয়েছে টিএসপি ১৩ মেট্রিকটন, এমওপি ১৫ মেট্রিকটন ও ডিএপি ১১ মেট্রিকটন ও মতিহার থানার দুজন ডিলারকে দেয়া হয়েছে টিএসপি ৮ মেট্রিকটন, এমওপি ১৫ মেট্রিকটন ও ডিএপি ৭ মেট্রিকটন। শুধু আগস্ট মাসেই রাজশাহী ২১৬ জন ডিলারকে দেয়া হয়েছে টিএসপি ১৫১১ মেট্রিকটন, এমওপি ১৭৬০ মেট্রিকটন ও ডিএপি ২৩৪৯ মেট্রিকটন সার। এছাড়াও বিসিআইসি ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ ইউরিয়া সার দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রাজশাহীতে সার দেয়া ফসলের জমির পরিমাণ খুব বেশি নয়। চলছে রোপা আমন মৌসুম। কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ৮১ হাজার ১২৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। সবজি চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৩ হেক্টর, মাসকলাই ৬৩২ হেক্টর তুলা ১৭০ হেক্টর। চাষ হিসাবে আগস্ট মাসে ডিলারদের যে সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তারা উদ্বৃত্ত থাকার কথা। কিন্তু সেখানে ডিলাররা সংকট দেখিয়েছে। গত আগস্ট মাসেও এই একই পরিমাণ সার ডিলারদের বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু গত বছর আগস্টে সার সংকট হয়নি। কৃষকদের প্রশ্ন, সমপরিমাণ সার বরাদ্দ দেয়ার পরও গত আগস্টে সংকট হলো না, এবার আগস্টে কেনো সারের সংকট সৃষ্টি হলো? এসব সার গেলো কোথায়? কেনই বা কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। কেনই বা সারের জন্য হাহাকার?
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময় ৮৬ জন বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০০৮ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএডিসি সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। পরপর দু’বার এই সার ডিলার নিয়োগ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। এছাড়া বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকতে কোনো সার ডিলার নিয়োগ হয়নি। আর ১৯৯৯ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর যেসব ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রায় সবগুলোই আওয়ামীপন্থী। রীতিমত পুলিশ তদন্ত করে দেখে দেখে আওয়ামী লীগের লোকজনদের সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৯৯ সালে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগের সময় পুরো রাজশাহীতে প্রায় ২০ জনের মত বিএনপিপন্থী ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন। আর বাকিগুলো সব আওয়ামী ঘরানার ডিলার। বিশেষ করে ২০০৮ সাল, ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর যেসব বিএডিসি ডিলার নিয়োগ পেয়েছে তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ নিয়োগ পান নি। বর্তমান আওয়ামী লীগের নিয়োগ করা ডিলাররাই সার বিরতরণের সাথে যুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ব্যাপক সার সংকট সৃষ্টি হয়। চারিদিকে সারের জন্য হাহাকার শুরু হয়। ওই সময় বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে মূলত সার ডিলাররা সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকের মাঝে বিতরণ না করে বাইরে পাচার করেছেন। এতে সার নিতে গিয়ে সার না পেয়ে কৃষকরা হট্টগোল হয়েছে। আর কৃষকদের পুঁজি করেই ওই সময় বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সেই ২০০৪ সালের ন্যায় আবারো কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এসব ডিলাররা সার পাচার করে সংকট সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। কৃষি অফিস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার দেয়া হচ্ছে কিন্তু কৃষকরা ডিলারের কাছে গেলে সার পাচ্ছেন না। আবার বেশি টাকা দিলেই বাজারের মিলছে সার। এসব সার তো বাইরে পাওয়ার কথা না। তাহলে কি করে এসব সার বাইরে বিক্রি হচ্ছে। তাহলে নিশ্চয় এসব ডিলাররাই বেশি দামে বাইরে সার পাচার করছেন। যদিও কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসার ও সহকারী কৃষি অফিসারদের সার সংকটের জন্য দায়ি করছেন। তাদের যোগসাজসেই এই কৃত্রিম সংকট এমনটাই বলছেন কৃষকরা।
রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশিরভাগ ডিলার আগস্ট মাসের সার তুলে ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে বেশি দামে বাইরে সার বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেক ডিলার সার গোডাউনে ঢোকানের আগেই বাইরে বিক্রি করে দিয়েছেন। কিছু সার রেখে লোক দেখানোভাবে কৃষকদের দুচারদিন দিয়ে সার নেই বলে বসে থাকছেন। কিন্তু প্রতিদিন সন্ধ্যায় ডিলাররা কৃষি অফিসে মেসেজ দিচ্ছেন যে কতবস্তা সার বিক্রি হয়েছে।
পবার হরিপুর ইউনিয়নের বিএডিসি ডিলার আয়নাল হক। তার গোডাউনে ২০ তারিখের পর থেকে সার নেই। কৃষকরা তার কাছে সার নিতে আসলে জানানো হয় সার সংকট, সার নেই। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আয়নালের সারের গোডাউনের সামনে হাজির হতেই তার ছেলে গোডাউন বন্ধ করে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যান। তবে বিকেলে পবা উপজেলার কৃষি অফিসার জানান, আয়নালের গোডাউনে অনেক সার আছে, যা মেসেজের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। অথচ তার গোডাউনে সার না থাকায় ২০ তারিখের পর কোনো কৃষক সার পাননি। ২০ আগস্টের আগেই আয়নাল বেশি দামে সার বাইরে পাচার করেছেন বলে কৃষকরা দাবি করেন।
হরিপুরের মুন লাইট কৃষি বিতানের মালিক গাফ্ফার হোসেনের গোডাউনে সার থাকলেও দেয়া হয়নি। গোডাউনে রয়েছে সার, কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে অথচ বলা হয় সার নেই। পবার কাটাখালি হরিয়ান একই এলাকায় তিনটি সার ডিলার আছেন। এরমধ্যে একজন সার দিলেও বাকিরা সার নেই বলে কৃষকদের ঘুরিয়ে দিতে দেখা যায়। তবে এসব ডিলারদের কাছে পর্যপ্ত পরিমাণ সার আছে বলে নিজেরাই জানিছেন।
গোদাগাড়ীর দেউপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নজরুল ইসলাম পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পেয়েছেন। কিন্তু তিনি ১৫ আগস্টের মধ্যে সব সার বিক্রি করে গোডাউন খালি করে রেখেছেন। অথচ পাশেই দামকুড়া ইউনিয়নের ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সার দেখা যায় যা বিতরণ করা হচ্ছে। তানোরের রাজ্জাক এন্টার প্রাইজের গোডাউনে কোনো সার নেই। এর ডিলার আব্দুর রাজ্জাক জানান, উপসহকারী কৃষি অফিসারের উপস্থিতিতে তিনি সব সার বিক্রি করে দিয়েছেন অনেক আগেই। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যা বলার উপজেলা কৃষি অফিসার ও সহকারী কৃষি অফিসারকে বলেন। তাদের সাথে লিয়াজোঁ করেই আমি সার বিক্রি করেছি।
মোহনপুরের ধুরইল ইউনিয়নের হাজেরা এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাধায়ক মিলনের গোডাউনে টিএসপি সার নষ্ট হচ্ছে অথচ তিনি কৃষকদের দিচ্ছেন না। ডিএপি সার যা তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন সেগুলোর বেশির ভাগই বাইরে বিক্রি করেছেন। কিছু সার কৃষকরা পেয়েছে। বাকিগুলো গোডাউনে পড়ে থাকলেও বিতরণ করা হয়নি। তত্ত্বাধায়ক মিলন বলেন, কেউ সার নিতে আসে না, যার কারণে আমরা দিতে পারি না। মৌগাছি ইউনিয়নের ডিলার সুলতান মাহমুদ। তার গোডাউনে সেম্পল হিসাবে এক বস্তা ডিএপি, এক বস্তা টিএসপি ও এক বস্তা এমওপি রাখা হয়েছে। যেনো কৃষি অফিসাররা এলে তা দেখাতে পারেন। যদিও সুলতান মাহমুদ বলছেন অনেক আগেই সার শেষ হয়েছে। সেম্পল রাখতে বলেছে কৃষি অফিসার, যার কারণে তিনি এক বস্তা করে রেখেছেন। এদিকে বাগমারায় কিছু এলাকায় সার সংকট সৃষ্টি করা হলেও কৃষকদের উপর খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা, চারঘাটে ডিলাররা সার সংকট সৃষ্টি করলেও খুব বেশি হাহাকার ছিল না। শুধু মাত্র পবা, তানোর গোদাগাড়ী উপজেলার কিছু ডিলাররা সার সৃষ্টি করে কৃক্রিম সংকট তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা কৃষি অফিসার এ এম মান্নান বলেন, আমরা সার সংকটের বিষয়টি তদারকি করছি। প্রতিদিন কত বস্তা সার বিক্রি হলো তার মেসেজ দিচ্ছে ডিলাররা। উপসহকারীরাও নজর রাখছেন। তবে ডিলাররা সার সংকট সৃষ্টি করছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, রাজশাহীতে কৃত্রিম সার সংকট করা হয়েছে। এর জন্য দায়ি ডিলাররা। কারণ আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। এছাড়াও আগস্ট মাসেও পর্যাপ্ত পরিমাণ সার ডিলারদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ও কৃষি বিভাগকে বেকায়দায় ফেলতেই এই কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কৃষি অফিসারদের নিদের্শ দেয়া হয়েছে।
জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে সারের ঘাটতি নেই। আগস্ট মাসে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুত ও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় আরও অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংকট কেনো প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ডিলাররা মুলত এই সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ি। তবে বিষয়টি আমরা দেখছি।
