নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: এমপি মিলন
স্টাফ রিপোর্টার
মোহনপুরে বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার ছয়টি সড়ক উদ্বোধন করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সারাদিনব্যাপী এসব সড়কের উদ্বোধন স্থানীয় পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
উদ্বোধনের সময় তিনি বলেন, বর্তমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে দেশেল জনগণ তার দেখতে পাচ্ছেন। সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতা দেয়া শুরু করেছে। আগামীতে সারাদেশের নারীদেরকে ফ্যামিলি কার্ড এর আওতায় আনা হবে। এজন্য সরকার দ্রুত কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আর এই কার্ড সকল ধর্মের, সকল দলের এবং শ্রেণি পেশার নারীরা পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কৃষি কার্ডের বেলাতেও একই পন্থা অবলম্বন করা হবে। তবে এই কার্ড কৃষকরা পাবেন বলে জানান তিনি।
এমপি আরো বলেন, তিনি মোহনপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কার এবং উন্নয়ন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি ইতোমধ্যে মোহনপুওে বেশ কয়েকটি রাস্তা উন্নয়নের কাজের উদ্বোধণ করেছেন। যার কাজ চলমান রয়েছে। আজকে আবারও এই ছয়ঠি রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হলো। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, শুধু রাস্তাঘাট নয়। সকল সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। সরকারের ৩১দফা বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার। তার ওই হাত ধরে তার সহধর্মিনী তিন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাদার অফ ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছেন। বেগম জিয়াকে নারী জাগরণ এর পুরোধা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, শত নির্যাতন সহ্য করে তিনি এদেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি তার বিদায় আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারাক রহমান ছয় মাসেই অনেক চমক দেখিয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন। সেই সাথে প্রতিদিন নতুন নতুন কাজ নিয়ে তিনি জনগণের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে তিনি যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার নির্দেশনা অনুযায়ী সকল এমপি , মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু একটি দল এ উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করার জন্য ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে সবাইকে আহবান জানান। এরপর তিনি বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এর উদ্বোধন করেন।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতার এর সভাপতিত্বে বিমেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা মোহনপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, উপজেলা সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ, বাবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সরকার অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, কৃষকদল সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, এলজিইডি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, মোহনপুর উপজেলা প্রকৌশলী রকিব হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন আলী সরকার ও সাব্বির খন্দকারসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
উল্লেখ্য রাস্তা উদ্বোধন করা হয় চাঁদপুর চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশ থেকে মাখনপুর গুচ্ছগ্রাম হয়ে মুনসুর মেম্বারের বাসা পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৫ মিটার সড়ক, মৌগাছী জিপিএস থেকে কৃষ্ণপুর ইউজেডআর পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটার সড়ক, কোটালীপাড়া ইউজেডআর থেকে কোটালীপাড়া বিডব্লিউডিবি পর্যন্ত ৯৯০ মিটার সড়ক, দাঁড়াপাড়া থেকে মুগাইপাড়াহাট পর্যন্ত ১ হাজার ২৭০ মিটার সড়ক, বিষহারা ইউজেডআর থেকে হাটখোলা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক এবং কৃষ্ণপুর ইউজেডআর থেকে কৃষ্ণপুর পূর্বপাড়া পর্যন্ত ৪৫০ মিটার সড়ক। এসব সড়ক চাঁদপুর, নখড়াজিঘাট, হিন্দুপাড়া, ধোরসা, চক বিরহী, বিষহারা ও কৃষ্ণপুর এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা গেছে।
