নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দখল ও দূষণ বন্ধের আহ্বান
নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, দখল ও দূষণ বন্ধ করা এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। ‘নদী বাঁচাও, জীবিকা বাঁচাও—প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনো’ শীর্ষক এ সভার প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রবাহ নেই তো নদী নেই, পানি নেই, জীবন নেই!’ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়, এটি মানুষের জীবন, জীবিকা ও প্রকৃতির ভারসাম্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নদী রক্ষায় দখল ও দূষণ বন্ধের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, সামাজিক সংগঠন ও পরিবেশকর্মীদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা জরুরি।’ সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাধারণ পরিষদ সদস্য ও রুলফাওয়ের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বস্তি উন্নয়ন ও কর্ম সংস্থার পরিচালক মো. হাসিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী রিংকু প্রামাণিক, জেলা মৎস্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোসা. আয়েশা খাতুন, দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত এবং এএলআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানজিদা খান। আলোচনা সভায় নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকার সম্পর্ক, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নদীর পানিপ্রবাহ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা নদীর দখল ও দূষণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। বক্তারা আরও বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা না গেলে পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদী ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সূত্র: কালের কন্ঠ
