প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাওয়া বাস্তবায়ন করতে হবে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দলে কোনো চাঁদাবাজ ও দখলদারের স্থান নেই। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কেউ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে পার পাবে না। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের গত সেশনের সমাপ্তি এবং আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া নতুন সেশন শুরুর মাঝখানে গত রোববার জাতীয় সংসদে আয়োজিত এক বিশেষ সংসদীয় দলের দীর্ঘ বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে সকল সংসদ সদস্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সরকারকে আরও শক্তিশালী করা, সরকারি কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। এছাড়া, দলের সকল স্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ সদস্য, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন যেন স¤পূর্ণ সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই যাতে প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। প্রায় তিন ঘন্ট ধরে চলা এই বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা এবং জনগণের স্বস্তির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কোথায় কে কি সমস্যায় পড়ছে তা প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যে, ইচ্ছা ও নির্দেশান দিয়েছেন, তা দল ও সরকারের বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবী। বিএনপির ভাবমর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে একদিকে সরকার চালাতে হচ্ছে, আরেকদিকে দলের দেখভালও করতে হচ্ছে। অথচ এটি একটি সম্মিলিত কাজ। দলের যারা মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন, তারা দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং চাঁদাবাজী, দখলবাজী ও অপকর্ম রোধে কী ভূমিকা পালন করছেন, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। মনে রাখা দরকার, প্রধানমন্ত্রী দলের মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে যে পার্লামেন্টারি বৈঠক করেছেন, দল শুধু তাদের নিয়ে নয়। এর বাইরে দলের বিশাল কলেবর রয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী রয়েছে। দলকে সুশৃঙ্খল রাখতে সেখানে তারা কতটা ভূমিকা রাখছেন, এ প্রশ্ন এখন উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীকেই যদি সবকিছু দেখতে হয়, তাহলে তারা কী করছেন? তাদের মনে রাখতে হবে, তাদেরকে মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছে দল। দলকে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল রাখতে এবং দলের দুর্বৃত্ত শ্রেণীকে প্রতিহত করতে তাদের দায়িত্ব রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চাঁদাবাজ-দখলবাজ নির্মূল করে দলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তরিক এবং তিনি তা চান। তাঁর সাথে তাল মিলিয়ে দলের মন্ত্রী-এমপি এবং দলের নীতিনির্ধারকসহ সকল স্তরের নেতাদেরও একই চাওয়া থাকতে হবে। এই চাওয়া পূরণ করতে হবে। দলের নাম ভাঙিয়ে যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করছে, তাদের দমনে প্রধানমন্ত্রী যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই অপকর্মের সাথে যারাই জড়িত থাকুক, যারাই দলের বদনাম করছে, তাদেরকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না।
