স্পেনের বিজয়, মানবতার বিজয়
অনির্বচনীয় ও নান্দনিক ফুটবল খেলে এবারের বিশ্বকাপ জয় করে নিয়েছে স্পেন। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দেশটি। খেলার যে ফলাফল, তা পুরো খেলার চিত্র নয়। বরং আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে আরো অধিক গোলে পরাজিত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। ফাইনালের পুরো সময় জুড়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে কোনো সুযোগই দেয়নি স্পেন। দেশটির পরিকল্পিত, ছন্দময়, জ্যামিতিক এবং অনিন্দ্যসুন্দর খেলার কাছে আর্জেন্টিনা অসহায় হয়ে পড়েছিল। গোল দেবে কি, পুরো সময়জুড়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের গোল ঠেকাতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। কিংবদন্তি লিওনেল মেসি যেন তার ছায়া হয়েছিলেন। যোগ্যতম দল হিসেবেই স্পেন যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। লিওনেল মেসিও স্বীকার করেছেন, স্পেন ভালো খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অথচ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা যে দুর্দান্ত যাত্রা শুরু হয়েছিল, তাতে মনে হয়েছিল, তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। স্পেনের অসাধারণ খেলার কাছে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সেই বিজয়রথ থেমে গেছে। আমরা স্পেনকে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাই। আমাদের দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রভাব অপরিসীম। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ নিয়ে অকল্পনীয় উচ্ছ্বাস দেখা যায়। যতদিন বিশ্বকাপ চলে, ততদিন তাদের মন ও মননে থাকে ফুটবল। শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, সকলশ্রেণীর মধ্যে বিশ্বকাপ নিয়ে তুমুল আলোচনা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলে। সারাদেশ উৎসবমুখর হয়ে উঠে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। প্রায় সকলেই ফুটবলের ঘোরের মধ্যে থাকে। এতে যে ইতিবাচক দিক পরিলক্ষি হয় তা হচ্ছে, উল্লেখযোগ্য হারে অপরাধ প্রবণতা কমে যাওয়া। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সকলেই ঘোর কাটিয়ে বাস্তব জগতে প্রবেশ করেছে। নানা ধরনের সমস্যা ও সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাৎ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চলমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা ফিরছে। এসব সমস্যা সামাল দিতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের সামনে লক্ষ্য দিতে হবে। সরকার ক্ষয়ে যাওয়া পরিবারিক ও সমাজিক মূল্যবোধ অটুট রাখা ও বৃদ্ধির যে লক্ষ্য স্থির করেছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজটি দ্রুত করতে হবে।
