সম্পাদকীয়

রাজশাহীতে সময়োপযোগী উদ্যোগ

রাজশাহীর নাম শুনলেই চোখে ভাসে বিস্তীর্ণ মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ পতিত জমি। বলা চলে, ওই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল আমন ধান, আর কিছু শীতকালীন শাক-সবজি। এখন সেই সময় গত হয়েছে। পতিত সেই সব জমিতে এখন চাষ হচ্ছে আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমের ধানই। সৌর বিদ্যুতের কল্যাণে এমনটি সম্ভব হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ‘পলিনেট হাউসের’ চাষের মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলের গোটা কৃষির বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।এমন উদ্যোগ সময়োপযোগী তো বটেই, একই সঙ্গে মনে আশা জাগায়, একদিন আমাদের কৃষি খাতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে এবং দেশের কৃষকদের দুর্দশা লাঘব হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের রাজশাহী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরেন্দ্র অঞ্চলে এ পর্যন্ত প্রায় ৩২টি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বিতরণ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ খরচ হ্রাস এবং পানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে দূরদূরান্তের পুকুর থেকে পাইপ ও ডিজেল দিয়ে পানি আনতে হতো।সেই দুর্ভোগ এখন নেই। সোলার পাম্পের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ওঠে। এই পানি দিয়ে এলাকার ২০ জন কৃষকের ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের সেচ খরচ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এ ছাড়া ‘পলিনেট হাউসে’ চাষাবাদের কল্যাণে টমেটো, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও মরিচের মতো শীতকালীন ফসলেও এসেছে বৈচিত্র্য।অসময়ে অনেক কিছুর চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর; কিন্তু দেশের কৃষি খাত নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে আমাদের কৃষিকে এখনো যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি। কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার নেই বললেই চলে। এতে আমাদের কৃষকরা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না, আবার ফসল পেলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকটের কারণে জমিতে সেচ নিয়ে অনেক কৃষককে হিমশিম খেতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাপনা হতে পারে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।আমরা মনে করি, জ্বালানি তেলের এই সংকটকালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলো টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ। রাজশাহীর মতো দেশের আর কোথায় কোথায় এই পদ্ধতি চালু করা যায়, সেই সম্ভাব্যতা যাচাই করে সেই অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
 

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট