পুনর্ভবার মাছে জমে উঠেছে  নিতপুর বাজার

আমির উদ্দীন বাবু, পোরশা

নওগাঁর পোরশা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ঐতিহ্যবাহী পুনর্ভবা নদীর তাজা ও সুস্বাদু মাছে ভরে উঠেছে ঐতিহাসিক নিতপুর পুরাতন মাছ বাজার। নদী থেকে ভোরে সংগৃহীত রাসায়নিক ও বরফমুক্ত বিষমুক্ত মাছের সুবাদে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে পুরো বাজারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরেই পুনর্ভবা নদী থেকে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে বোয়াল, আইড়, বাইম, পাবদা, টেংরা, পাতাশি, বাউস, গোচি ও বৈচিত্র্যময় দেশীয় গুঁড়ো মাছ। কোনো ধরনের বরফ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই একদম তাজা অবস্থায় মাছগুলো সরাসরি নিতপুর বাজারে নিয়ে আসা হয়। ফলে ভোর হওয়ার সাথে সাথেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোজনরসিক মানুষ ও সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় জমছে।

বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, অন্যান্য বাজারের সাধারণ মাছের তুলনায় পুনর্ভবা নদীর দেশি মাছের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। নদীর মাছ ফরমালিনমুক্ত ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় দাম কিছুটা চড়া হলেও স্বাচ্ছন্দ্যেই তা কিনে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে বাজারের ৫টি প্রধান আড়তে প্রতিদিন গড়ে লাখ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হচ্ছে। বাজান ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাতাশি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বাউস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পুঁটি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, গোচি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা কেজিতে। স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, পুনর্ভবা নদী এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি ও জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। সকালে নদী থেকে ওঠে আসা মাছের ভালো দাম পাওয়ায় আনন্দিত স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও। নিতপুর মাছ বাজারের এই বিশাল সরবরাহ কেবল স্থানীয় চাহিদাই মেটাচ্ছে না; এখান থেকে প্রতিদিন পাইকাররা মাছ কিনে ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে সরবরাহ করছেন। এর মাধ্যমে পোরশার নিতপুর বাজার গ্রামীণ ঐতিহ্যের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট