সম্পাদকীয়

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় শি জিনপিং ও ট্রাম্পকে ভূমিকা রাখতে হবে

ষাট বছরের অধিক সময়ের মধ্যে চীনের কোনো প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্র রাজকীয়ভাবে বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলে তাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে মেরিল্যান্ড যৌথ বিমানঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে রিসিভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো দেশের রাষ্ট্র প্রধানকে এমন রিসেপশান দেয়া এক বিরল ঘটনা। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, চীন বিশ্বে কীভাবে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি কীভাবে চীনকে সমীহ করছে। বাস্তবতার আলোকেই পরাশক্তিগুলো বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছে, চীনকে উপেক্ষা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। শি জিনপিংয়ের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজিরবিহীন ভক্তি থেকেই তা প্রমাণিত হয়। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত উভয়ের মধ্যকার বৈঠকে ট্রাম্প উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, আমাদের মধ্যে সত্যিকারের মহান বন্ধুত্ব রয়েছে। শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, বেইজিং ও ওয়াশিংটনকে সত্যিকার অর্থে তাদের পরাশক্তির প্রতিযোগিতাকে শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। দুই দেশকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ও বিরোধ নেই। উভয় দেশের উচিৎ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকা। যুদ্ধবন্ধে পারস্পরিক সংলাপ ও আলোচনার বিকল্প নেই। এজন্য পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ইরানযুদ্ধ বাঁধিয়েছে, সেহেতু তাকেই এ যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগী হতে হবে। চীনকেও এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে হবে। ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে শি জিনপিং যে আহ্বান জানিয়েছেন, তার বাস্তবায়ন ইরানযুদ্ধ বন্ধের মধ্য দিয়ে হতে পারে। এজন্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে। যুদ্ধবন্ধে তাদেরকে আন্তরিকভাবে আলাপ-আলোচনা ও সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে। এখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের মধ্যে কার জয়, কার পরাজয়, তা মুখ্যবিষয় হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। উভয় পক্ষকে ‘উইন উইন সিচুয়েশনে’ মধ্য দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। ইরান ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যসহ ভারত মহাসগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে, যার খেসারত পুরো বিশ্বকে দিতে হবে। কাজেই, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব ও কর্তব্য, অবিলম্বে যুদ্ধবন্ধে উদ্যোগ নেয়া। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের ইতিবাচক ও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

 
 

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট