অভিযোগের পাহাড় মাথায় নিয়ে বদলী হলেন বাগমারার ইউএনও
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুনীর্তি ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্বব্যবহারের নানা অভিযোগ ওঠার পর তাকে বদলি বা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২ টার মধ্যে তাকে উপজেলার দায়িত্ব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানের উপর ন্যাস্ত করে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়।
জানা যায়, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যলায় মাঠ প্রশাসন শাখা হতে বাগমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদকে গত ১সেপ্টম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় ও সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্নাকে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। এর ৪ দিন পর তিনি গতকাল সকাল হতে অফিসে কাজ করছিলেন। দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যলায় থেকে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের নিদের্শ আসার পর পর তিনি বেলা ১২টার দিকে অফিস ত্যাগ করেন। গত এপ্রিল মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বদলির পর উপজেলা কর্মকর্তা হিসাবে ২৭ এপ্রিল যোগ দেন সেলিম আহমেদ। তিনি যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুনীর্তি ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্বব্যবহারের নানা অভিযোগ উঠে। অনিয়ম, দুনীর্তি ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্বব্যবহারের নানা অভিযোগসহ তিনি রাতের অন্ধকারে উপজেলা পরিষদের দীঘির মাছ ধরে বিক্রি করে সরকারী কোষাগারে টাকা জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাত করার অভিযোগ আসে।
এছাড়া তিনি যোগদানের পর উপজেলা পরিষদের কয়েক লক্ষ টাকার আম, জাম, কাঁঠাল বিক্রি করে নিজেই টাকা আত্মসাত করছেন বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়াও সরকারী কাজ কর্ম করতে গেলে তাকে ২০% থেকে ২৫% দিতো হতো। তার এমন আচরনে অতিষ্ট ছিল বিভিন্ন পেশার ঠিকাদারগন। বাগমারায় উন্নয়নত দূরের কথা, তার যোগদানের পর থেকেই কোন কাজ করেনি ঠিকাদারেরা।
তিনি বাগমারায় যোগদানের পর উপজেলা পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের মানুষ মনে করতেন না। তার আচরণে সবাই অতিষ্ঠ্য ছিল। স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা দলের শীর্ষ নেতাদের জানালে বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় ইউএনও সেলিম আহমেদকে অন্যত্রে বদলী করেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাড়ে দুপুর বারোটার মধ্যে তাকে বাগমার ত্যাগ করতে বলা হয়। এদিকে মাছ মারার বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, মাছ মারার বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই। আপনার ইউএনও স্যারের কাছ থেকেই বিষয়টি জেনে নিবেন। একই কথা বলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মিজানুর রহমান। শত বির্তকের জন্ম দিয়েই অবশেষে বাগমারা ত্যাগ করলেন ইউএনও সেলিম আহমেদ।
