একাদশে ভর্তিতে কোন কোটায় কত  শতাংশ, মেধার ভিত্তিতে কত?

দেশব্যাপী এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি। সম্প্রতি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এতে ৭ শতাংশ আসন কোটার জন্য রেখে বাকি ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রস্তাবিত এই নীতিমালায় ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই কেবল এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে। কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালায় একাদশে ভর্তির যোগ্যতা, বিভাগ নির্বাচন, মেধাক্রম, কোটা, অনলাইন আবেদন, ভর্তি ফি, কলেজ পরিবর্তন এবং অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। অনুমোদনের আগে প্রস্তাবগুলোতে পরিবর্তন বা সংশোধনের সম্ভাবনাও রয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাবর্ষে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং ধারাবাহিকভাবে তার আগের দুই বছরে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড কিংবা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি কোনো বোর্ড বা সমমানের প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তাদের সনদের সমমান নির্ধারণ করবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। সমমান নির্ধারণের পর তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। প্রস্তাবিত নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ আসন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র বা সনদ যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। বিভাগ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার যেকোনোটিতে আবেদন করতে পারবেন। আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেবল মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই দুই বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদনের সুযোগ পাবেন।যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান ও সংগীতে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া মাদরাসা বোর্ডের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় এবং সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির গ্রুপের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ছাড়া অন্য যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণদের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেকোনো বিভাগে এবং দাখিল (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণদের মাদরাসা বোর্ডের বিজ্ঞান, সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির গ্রুপের যেকোনো একটিতে ভর্তির আবেদনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় একাদশ শ্রেণিতে আলাদা কোনো ভর্তি পরীক্ষা না রেখে কেবল এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তির বিধান রাখা হয়েছে।প্রস্তাবিত ফি কাঠামো অনুযায়ী, একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদনের ফি প্রতি শিক্ষার্থী ২২০ টাকা, প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত রেড ক্রিসেন্ট ফি ২৪ টাকা এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক বোর্ডে পাঠানোর বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে, ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীপ্রতি মোট ৩৪০ টাকা গ্রহণ করবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, রোভার বা রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা ভাতা ফি ১০০ টাকা।খসড়ায় এমপিওভুক্ত এবং নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সেশন চার্জ, ভর্তি ফি ও উন্নয়ন ফি আলাদাভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান (ঢাকা মেট্রোপলিটন, ঢাকার বাইরের মেট্রোপলিটন, জেলা ও মফস্বল) এবং মাধ্যম (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) ভেদে ভিন্ন হবে।২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির খসড়া নীতিমালায় অনলাইন আবেদন, ফল প্রকাশ, নির্বাচন নিশ্চায়ন, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে।২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশিত হবে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে আবেদন ও নির্বাচন দুটিই বাতিল হবে। পরবর্তীতে প্রথম মাইগ্রেশনের ফল ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় প্রকাশ করা হবে।চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। সূত্র: কারে কণ্ঠ
 

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট