শেষ মুহূর্তে জমজমাট কানসাটের আম বাজার

জাহিদ হাসান মাহমুদ মিম্পা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

আমের মৌসুম শেষের পথে। বাগানে আম কমেছে, বাজারেও কমছে সরবরাহ। তবু চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কানসাট আম বাজারে ব্যস্ততা কমেনি। বরং মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বাজারে দেখা দিয়েছে ভিন্ন এক চিত্র। প্যাকেটজাত আমের চেয়ে খোলা আমের দামই বেশি।

রবিবার সরেজমিনে কানসাট আম বাজারে দেখা যায়, সারি সারি রিকশাভ্যান ও ভ্যানে করে বিভিন্ন বাগান থেকে আসছে আমের ঝুড়ি। আড়তগুলোয় চলছে আম বাছাই, ওজন ও দরদাম। কোথাও আশ্বিনা, কোথাও কাটিমন, গৌড়মতি ও বারি-৪। মৌসুম শেষ হওয়ার মুখেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততায় বাজারে যেন শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে আশ্বিনা আমের দাম।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্যাকেটজাত আশ্বিনার তুলনায় খোলা আমের দাম এখন বেশি। বড় আকারের প্যাকেটবিহীন আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে। বিপরীতে প্যাকেটজাত আশ্বিনার দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা।

কানসাটের আমের আড়তদার মজিবুর সরকার বলেন, এবার খোলা আমের চাহিদা বেশি। বড় আকারের খোলা আশ্বিনা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত আশ্বিনা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। তবে বিশেষ জাতের ‘ঝিনুক আশ্বিনা’র দাম আরও বেশি। এ জাতের আম প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। জানা গেছে, আমকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে অনেক বাগানে গাছেই আম প্যাকেট করে দেওয়া হয়।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এতে আম নষ্টকারী পোকার উপদ্রব, আমের গায়ে পোকার ক্ষতির দাগ কম পড়তে পারে এবং আমের বাহ্যিক সৌন্দর্যও অনেক ক্ষেত্রে ভালো থাকে।

কানসাট আব্বাস বাজার এলাকার একটি বাগান থেকে আশ্বিনা আম নিয়ে বাজারে এসেছেন চাষি আব্দুল মান্নান। তিনি বলেছেন, এ বছর আশ্বিনা আমে রোগ-পোকার আক্রমণ ছিল বেশি। গাছেই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আম নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে আনতে পেরেছেন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আম। উৎপাদন কম হলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় হতাশ এ চাষি। মৌসুমের শেষ দিকে এসে আশ্বিনা আমের দামেও দেখা যাচ্ছে ওঠানামা।

কানসাট আম বাজারের ইজারাদার সৈবুর রহমান বলেন, আগের দিনের তুলনায় শুক্রবারও বাজারে আশ্বিনার দামে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রতিদিনই দরের কিছুটা ওঠানামা হচ্ছে।কানসাট আম বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে এখন জমে উঠেছে কাটিমন, গৌড়মতি ও বারি-৪ আমের বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যাপারীরা সেখানে আম কিনছেন।

ঢাকার ব্যাপারী সাদিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শেষ পর্যায়ে তিনি বারি-৪ আম কিনছেন প্রতি মণ ৯ হাজার টাকা দরে। আর গৌড়মতি ও কাটিমন কিনছেন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা মণ দরে। বাজারের ইজারাদার সৈবুর রহমানের ধারণা, আর ১০ থেকে ১৫ দিন আমের বাজার চলতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে চলতি মৌসুমের আমের বেচাকেনা।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট