বাঘায় ব্যবসায়ীর জিরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ধূম্রজাল প্রতিকার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা!
বাঘা প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘায় মালামাল বিক্রির অর্ধকোটি টাকার লেনদেন নিয়ে থানা-পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শঙ্কা প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, “বাকিতে বড় অংকের মাল দিয়ে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসেছে। উপজেলার আড়ানীর স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ৯০০০ কেজি জিরা কিনে টাকা না দিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উল্টো আরো ৭২ হাজার ৫০০ টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাবনার সুজানগর থানার চর চিনাখড়া গ্রামের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার (মিঠন) আড়ানী পৌরসভার জোতরঘু গ্রামের সুজাত আহমেদ তুফান(৫২) ও একই পৌরসভার পালপাড়ার সুইটসহ ৪জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সুজাত আহমেদ তুফান আড়ানী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার (মিঠন) জানান,বৃহসপতিবার(৭মে) দিনভর নাটক করে গভীর রাতে ১০০ বস্তা জিরা ফেরত দিয়েছে। আগামী রোববার বাকি ২০০ বস্তা জিরা ও কেড়ে নেওয়া টাকা ফেরত দেওযার জন্য সময় নিয়েছে।
ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার (মিঠন) জানান, গত বুধবার সুইট নামে একজন মোবাইলে যোগাযোগ করে তার আড়ত থেকে ৯০০০(নয়) হাজার কেজি জিরা ক্রয় করেন। ৫৫০ টাকা হিসেবে যার মূল্যে ছিল ৪৯ লাখ ৫০ হাজার। মুখের কথায় বিশ্বাস করে ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে ৩০ কেজি ওজনের ৩০০ বস্তায় ৯০০০(নয়) কেজি জিরা বুধবার ডেলিভারি দেন। সুজাত আহমেদ তুফান ও সুইটসহ আরো দুইজন ট্রাক থেকে মাল আনলোড করেন।
“মাল নেওয়ার পর থেকে তারা টাকা দিচ্ছি দিব বলে পরে আর টাকা দেন নাই। বরং একটি গোপন স্থানে নিয়ে গিয়ে চাকু বের করে প্রাণনাশের ভয় দেভিয়ে কাছে থাকা ৭২ হাজার ৫০০ টাকা বের করে নেয়। পরে বাধ্য হয়ে বাঘা থানায় অভিযোগ করেছি,”। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফেরদৈাস সরদার(মিঠন) জিরাগুলো ইমর্পোট-এ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি বিক্রি করেন। পুলিশ জানায়, তদন্ত করে যার সত্যতা পাওয়া গেছে।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “অর্ধকোটি টাকার জিরা আত্মসাতের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার জন্য ভুক্তভোগী বাদিকে থানায় ডাকা হয়েছে। পরে আসেননি। তবে দুই পক্ষ মীমাংসার জন্য সময় চেয়েছে। মীমাংসা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, “ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হকের বাসায় দুই পক্ষকে নিয়ে বসা হয়। অভিযুক্তরা আগামী রোববার এর মধ্যে টাকা সহ জিরা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন আমরা চাই বিষয়টি সামাজিকভাবে শেষ হোক।” এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা তোজাম্মেল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তিনি রিসিভ করেননি। তবে অভিযুক্ত সুজাত আহমেদ তুফান বলেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় কিছুটা অমিমাংসিত রয়েছে।
