দুর্গাপুরে পড়াশোনার পাশাপাশি আঙুর চাষ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি

পড়াশোনার পাশাপাশি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আঙুর চাষে সাফল্যের নজির গড়েছেন রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত রাহুল আহমেদ (২৬) নামের এক তরুণ। এই তরুণ নিজ গ্রামের প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষ করে ইতোমধ্যে  আলোচনায় এসেছেন। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ারপুর গ্রামে তার বাড়ি। সেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী একটি আঙুর বাগান, যেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে। সফলতা পাওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। গতকাল বুধবার (৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে আঙুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন। বাগানে থোকায় থোকায় লাল ও সবুজ আঙুর ঝুলে থাকতে দেখা যায়, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। কেউ বাগানে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেই বাগান ঘিরে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছেন। বাগান ঘুরে অনেকেই সরাসরি মালিকের কাছ থেকে আঙুর কিনছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি আঙুর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকায়। এছাড়া আঙুরের চারা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন রাহুল আহমেদ, যা থেকেও তিনি ভালো আয় করছেন। আঙুর বাগানের মালিক রাহুল আহমেদ বলেন, “শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে ধৈর্য ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অন্য তরুণরাও আগ্রহী হয়।” তাই এখন চাকরির পেছনে নয়, আঙুর বাগানেই স্বপ্ন দেখছেন রাহুল।

রাহুল আরো জানান, প্রথমে ইউটিউব দেখে পরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুর চাষের পাশাপাশি তিনি কিছু জমিতে পেয়ারার চাষও করছেন। নিজের উদ্যোগে ‘সখের আঙুর বাগান’ নামে দিয়েছেন বাগানের। ফল বিক্রির পাশাপাশি কাটিং, কলম ও চারা বিক্রি করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসছেন, অনেকেই আগ্রহী হয়ে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।

আঙুর বাগান দেখতে আসা নাঈম নামে এক দর্শনার্থী বলেন, “আমরা সাধারণত আঙুর বিদেশি ফল হিসেবে জানি। কিন্তু আমাদের এলাকায় এভাবে আঙুর চাষ সম্ভব, তা রাহুল ভাইয়ের বাগান না দেখলে বিশ্বাসই হতো না। এটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।” দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, “নিজ উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এই আঙুর বাগান গড়ে তুলেছেন এই যুবক। কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।”

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট