রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় সহোদরসহ ৪ জন নিহত
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর মোহনপুর ও পুঠিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সহোদরসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্র ও গতকাল শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মূলত মোহনপুরে বালুবাহী ট্রাকের নিচে মোটরসাইকেল চাপা পড়ে দুইজনও ড্রাম ট্রাকেরে ধাক্কায় পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকায় একজন নিহত হয়।
জানা যায়, একটি মোটরসাইকেলে চালকসহ তিনজন আরোহী ছিলেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি একটি বালুবাহী ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাতুল ও লিমনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অপরজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, কেশরহাট পৌর এলাকার সাঁকোয়া মহল্লার রফিজ উদ্দিনের ছেলে কাইযুম ইসলাম রাতুল (১৮), তাঁর বড় ভাই স্বাধীন (২২) ও সিংহমারা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে লিমন (২২)।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত রাতুলের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর-চারঘাট সড়কে ড্রাম ট্রাক ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক দই ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ নম্বরপ্লেটবিহীন ট্রাকটি উদ্ধার করেছে। নিহতের নাম মানিক চাঁদ (৬০)। তিনি চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী গ্রামের মৃত শুকচাঁদের ছেলে। তিনি দই ব্যবসার পাশাপাশি ভ্যান চালাতেন। আহত শিবলু (২৮) একই গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মানিক চাঁদ ভ্যান চালিয়ে বানেশ্বর থেকে চারঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর ভ্যানে যাত্রী হিসেবে ছিলেন শিবলু। পথে আমহাটা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে রাজশাহীগামী একটি অজ্ঞাতনামা ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালক ও যাত্রী ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মানিক চাঁদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিবলু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ট্রাকটি উদ্ধার করেছে। ট্রাকটির কোনো নম্বরপ্লেট পাওয়া যায়নি। পলাতক চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
