নগরীর চৌরঙ্গী মসজিদে অবৈধভাবে চলা নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর কাজিহাটা এলাকার চৌরঙ্গী জামে মসজিদে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বেজমেন্টে দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ তুলে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মসজিদের একাংশের মুসল্লি ও এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি তোলা হয়েছে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমিনুর রহমান বাচ্চু। তিনি নিজেকে মসজিদের সাধারণ মুসল্লি, এলাকাবাসীর প্রতিনিধি, চলমান মামলাগুলোর বাদী ও আন্দোলনকারী হিসেবে পরিচয় দেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে সাধারণ মুসল্লিদের সমর্থনে একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলেও পরে তাঁদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বর্তমান কমিটির সভাপতি, সাবেক সভাপতি, খতিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাঁদের ওপর হামলা, মারধর ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব ঘটনায় একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করেন। অভিযোগ করা হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নির্দেশনা উপেক্ষা করে মসজিদের বেজমেন্টে দোকান, টয়লেটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে দুটি ভায়োলেশন মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
আমিনুর রহমান বাচ্চু দাবি করেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট মামলা নম্বর-১৫১১২/২০২৩-এ নতুন নির্মাণের ওপর স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী জেলা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের মূল মামলা নম্বর-১৩১/২০২৩ (বর্তমান ২৯৮/২০২৬)-এ ও মসজিদের অবকাঠামোয় মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ রয়েছে। এরপরও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ভায়োলেশন মামলা নম্বর-৮১/২০২৩ ও ২১/২০২৫ দায়ের করা হয়েছে। আদালত রাজপাড়া থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। এছাড়া হামলার অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা নম্বর-২৫৬/২০২৩ ও ১০২/২০২৫-ও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, আরডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী বেজমেন্ট পার্কিং হিসেবে ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ২২ থেকে ২৩টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেগুলো বিক্রিরও চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মসজিদের বিভিন্ন তলায় নামাজের স্থানের ওপর টয়লেট নির্মাণ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তা। এ বিষয়ে আদালত-নিযুক্ত অ্যাডভোকেট কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি জানানো হয়।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে খতিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, এগুলো মিথ্যা বানোয়াট। আমি কমিটির কেউ না। পরে তিনি মসজিদের কমিটির সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি ডা: আব্দুর রশিদ। মসজিদের সাবেক সভাপতি ডা: ইকবাল বারী বলেন, চেম্বারে রোগী নিয়ে ব্যস্ত আছি। এসব অভিযোগ সত্য নয়। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, সেই সময় আমি ইমারত কমিটির মেম্বার ছিলাম। মামলা ছিল সে জন্য অনুমোদন দেয়নি।
