জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে পোরশা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস

পোরশা প্রতিনিধি:

তীব্র জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে নওগাঁর পোরশা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস (বিআরডিবি)। গুরুত্বপূর্ণ সব পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে অফিসের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং মাঠ পর্যায়ের সেবা। বর্তমানে মাত্র একজন জুনিয়র কর্মকর্তা দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে এই সরকারি দপ্তরটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পোরশা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সরকারের নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেখানে পূর্ণাঙ্গ জনবল প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে মাত্র একজন জুনিয়র কর্মকর্তা এই অফিসের হাল ধরে আছেন।

বিড়ম্বনার এখানেই শেষ নয়, পোরশা উপজেলার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের মূল দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি ওই জুনিয়র কর্মকর্তাকে পার্শ্ববর্তী সাপাহার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব (চলতি দায়িত্ব) পালন করতে হচ্ছে।

একই সাথে দুটি উপজেলার বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ওই কর্মকর্তা। সপ্তাহে দিন ভাগ করে দুই উপজেলায় সময় দিতে গিয়ে কোনো অফিসেই তিনি পূর্ণ সময় দিতে পারছেন না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা সময়মতো অফিসে কর্মকর্তা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। থমকে দাঁড়িয়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের নানা প্রকল্প।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অফিসে এসে প্রায়ই বড় কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। শুনলাম তিনি অন্য উপজেলারও দায়িত্বে আছেন। একজন মানুষ কয়দিকে সামলাবেন? দ্রুত এখানে স্থায়ী কর্মকর্তা দেওয়া দরকার।”

এই বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, “জনবল সংকটের কারণে কাজ পরিচালনা করা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই উপজেলার দায়িত্ব একা পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সেবা সচল রাখতে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

পোরশাবাসীর দাবি, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারি সেবার মান বজায় রাখতে জরুরি ভিত্তিতে পোরশা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও একজন স্থায়ী পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা পদায়ন করা হোক।#

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট