সম্পাদকীয়

খেলাধুলার বিকাশে প্রয়োজনীয় অর্থ নিশ্চিত করতে হবে

গত শনিবার বিকালে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলা ও পুরস্কার বিতরণী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। বালক ও বালিকাÑ উভয় বিভাগের চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয় ওইদিন। প্রধানমন্ত্রী দুপুরে মাঠে আসেন, টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন, মাঠে আসা শিক্ষার্থী ও খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করেন। বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪৩ দলের ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন এবং বালিকা বিভাগে সমসংখ্যক দলের ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন ফুটবলার এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক খেলার এটি সবচেয়ে বড় আসর। চূড়ান্ত পর্বে বালক ও বালিকা বিভাগে মোট চারটি দল অংশ নেয়। বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তার কাছে পরাজিত হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বালিকা বিভাগে শিরোপা পায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তার কাছে পরাজিত হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আমরা চূূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী চারটি দলসহ গোটা টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া সব দলের খুদে ফুটবলারদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। সাধুবাদ জানাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে, যার আয়োজনে এত বড় ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই স্মরণীয় উৎসবের শেষ বা চূড়ান্ত পর্বে উপস্থিত হয়ে ক্রীড়ার প্রতি, একই সঙ্গে শিশুদের প্রতি তার অকৃত্রিম অনুরাগের পরিচয় দিয়েছেন। শিশুশিক্ষার্থীরা তাকে বিপুলভাবে স্বাগত জানিয়েছে এবং আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছুু গুরুত্বপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের ভালোভাবে লেখাপড়া করতে বলেছেন। বলেছেন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশ নিতে। তার ভাষায়: খেলাধুলার মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। এখন থেকে লেখাপড়াও করতে হবে। খেলা ছাড়লে চলবে না। যে যেই খেলা পছন্দ করবে, সে সেটি খেলবে। খেলাধুলার চর্চা রাখতে হবে। আরো উল্লেখ করেন: আমি জানি, তোমাদের অনেকে ভালো গান করতে পারো, কুরআন তিলাওয়াত করতে পারো। তোমরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তোমাদের সব কিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তোমরা যদি পারদর্শী হয়ে উঠতে পারো, তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ, একটি স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তোমরা যখন বড় হবে, তোমাদেরকেই বাংলাদেশকে ভালোভাবে চালাতে হবে। শিশুদের শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকে। তারপর প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। সমাজও একটি প্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে শিশুরা শিক্ষা পায়। কাজেই, শিশুদের ব্যাপারে বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজনেতাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। শিশুদের বিভিন্ন অনিষ্ঠ, অনীহা, আসক্তি, অথর্বতা, হতাশা ইত্যাদি থেকে রক্ষা করতে পারে উপযুক্ত শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-। অতীতে দেশের শহরগুলোর পাড়া-মহল্লায় এমনকি অনেক গ্রামে ক্লাব ছিল, লাইব্রেরি ছিল। ক্লাবকেন্দ্রিক খেলাধুলাÑ যেমন ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, হাডুডু ইত্যাদির টুর্নামেন্ট হতো। এসব খেলার জন্য মাঠের কোনো অভাব ছিল না। বয়সভিত্তিতে এসব খেলা হতো, যেখানে শিশু-কিশোররাও সুযোগ পেত। লাইব্রেরিতে সব বয়সী মানুষই পড়াশোনা করতে পারত। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এখন ক্লাব ও লাইব্রেরি নেই বললেই চলে। প্রায় সব উঠে গেছে। শহরে ও গ্রামে খেলার মাঠ পাওয়া দুষ্কর। খেলার সংগঠকের যেমন অভাব, তেমনি লাইব্রেরির উদ্যোক্তাদেরও খুঁজে পাওয়া যায় না। শিক্ষা, লেখাপড়া, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চাÑ সব ক্ষেত্রেই এক ধরনের বন্ধাত্ব দেখা দিয়েছে। শুধু নির্দেশ দিলেই এই বন্ধাত্ব দূর হবে না। এ জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যাবলি শিশু, কিশোর, যুবাদের অপরাধপ্রবণতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে যথাযথ নজর দেয়া জরুরি। এজন্য বড় ধরনের আর্থিক তহবিল ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক দেশব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য খেলারও এ ধরনের আয়োজন করতে হবে। এ জন্য মাঠ দরকার, অর্থ দরকার, খেলাধুলার সরঞ্জাম দরকার। এ সবের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের সর্বত্র লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা- জোরদার করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব করা হলে শিশু, কিশোর ও যুবারা অপরাধ, দুষ্কর্ম ও বদ আসক্তি থেকে সহজেই বেরিয়ে আসতে পারবে। সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। দেশের ভবিষ্যতের জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজন অপরিহার্য।
 

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট