‘ইরান কাগুজে বাঘ নয় ’: নেতানিয়াহু

লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান শুধুই নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সউফান সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কলিন ক্লার্ক। তার মতে, এই যুদ্ধের পেছনে রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে এবং এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লার্ক বলেন, তিনি বিষয়টিকে শুধু ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, এটি অনেকটাই নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।ক্লার্কের ভাষায়, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নেতানিয়াহু বিচারিক জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সামনে নানা ধরনের রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।একই সঙ্গে দেশের ভেতরেও তিনি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছেন।সাক্ষাৎকারে ক্লার্ক আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।তিনি বলেন, নেতানিয়াহু চাইলে ট্রাম্পকে যুদ্ধ শুরুর পক্ষে রাজি করাতে পারেন।

আবার ট্রাম্প যদি অবস্থান পরিবর্তন করেন, তাহলে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করার জন্যও চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। ফলে এই সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ক্লার্কের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা রাখা। তিনি বলেন, শুধু সামরিক অভিযান চালিয়ে সব রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি সহজে আত্মসমর্পণ করবে না এবং চাপের মুখে হাল ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও কম। তার মতে, ইরান কোনো কাগুজে বাঘ নয়। ভেনেজুয়েলার মতো এক রাতেই ক্ষমতাচ্যুত করে ফেলার মতো দুর্বল প্রতিপক্ষ নয় ইরান। ক্লার্ক বলেন, ইরানের সক্ষমতা ও বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরো কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সূত্র: ইত্তেফাক

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট