চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরগরম কোরবানির হাট
জাহিদ হাসান মাহমুদ মিম্পা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশুর হাটগুলোতে ততই বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে জেলার ছোট-বড় সব পশুর হাটে আয়োজনের কোনো কমতি রাখেনি হাট কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটের ভেতরের অবকাঠামো সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে পশু ও টাকা লেনদেন করতে পারেন, সেজন্য বাঁশ দিয়ে মজবুত বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষায় টানানো হয়েছে বিশাল সামিয়ানা, আর হাটের যত্রতত্র পশু বাঁধার সুবিধার্থে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসানো হয়েছে খুঁটি। এদিকে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আনা হয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। জাল টাকার কারবার ঠেকাতে বসানো হয়েছে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন। পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। এর পাশাপাশি, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮টি গরু, ৫০৬টি মহিষ, ৮০ হাজার ৩৪৩টি ছাগল, ১২ হাজার ৪২২টি ভেড়া এবং ৫টি অন্যান্য গবাদিপশুসহ সর্বমোট ২ লাখ ২২ হাজার ৬৪৪টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। ২০২৬ সালে পুরো জেলার মোট পশুর চাহিদা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০টি, যার বিপরীতে জেলায় সর্বমোট ৫৫ হাজার ৮৯৪টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
এছাড়া উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ৮৬ হাজার ৩৪৩টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ৪৬ হাজারটি এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৩টি পশু।
শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩৮ হাজার ৩১১টি পশু প্রস্তুত থাকলেও চাহিদা রয়েছে ৫১ হাজার ২২৯টি, ফলে এখানে ১৩ হাজার ৫৭টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। নাচোল উপজেলায় ১৩ হাজার ৫২৫টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ১২ হাজার ৫২০টি এবং উদ্বৃত্ত ১ হাজার ৫টি পশু। গোমস্তাপুর উপজেলায় ৫৭ হাজার ৮০৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে যেখানে চাহিদা ৪৫ হাজার ৪৫৩টি এবং উদ্বৃত্ত ১২ হাজার ৩৫৬টি পশু। সর্বশেষ ভোলাহাট উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৭৬টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ১১ হাজার ৫০০টি এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫ হাজার ২৭৬টি পশু।
গরু বিক্রেতা বাসির উদ্দিন বলেন, গতবার যে তুলনায় গরু বেচাকেনা হয়েছে এইবার সেই তুলনায় এখনো বেচা কেনা লাগেনি। বেচাকেনা খুব কম। আশা করছি সামনের হাটে বেচাকেনা হবে। গতবারের তুলনায় এইবার গরুর দাম বেশি। কারণ সব কিছু (গো-খাদ্য) জিনিসের দাম বেশি। একটা গরু লালন পালন করতে অনেক টাকা খরচ, সেই হিসেবে গরুর দাম একটু বেশি।
ক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, হাটে গরু দেখতে এসেছি। গরু দেখে শুনে কিনব। তবে গরুর দাম অনেক বেশি। ইন্ডিয়ান গরু আমরা নেবো না মনে করছি, তাই আমরা দেশি গরু খুঁজছি। তাই দেশি গরু দেখে শুনে কিনব। হাটে গরু তুলনামূলকভাবে ভালোই আছে।
বিক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, ছাগলের দাম গতবারের তুলনায় এইবার অনেক কম। লালন পালন করে তেমন লাভ হচ্ছে না। হাটে তেমন পাইকার আসছে না। আমার ৩৫টি ছাগল আছে, তার মধ্যে আজকে ১০টি বিক্রি করলাম। কিন্তু ছাগল প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা দাম কম।
ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার গরুটির দাম হচ্ছে ৭৪ হাজার টাকা। এই দামে গরু কিনে আমি সন্তুষ্ট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কৃত্রিম প্রজনন টেকনিশিয়ান আব্দুর রহিম বলেন, আমরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে এসেছি। এখানে যে বকনা বা গাভী গরুগুলো বেচাকেনা হচ্ছে সেগুলোকে আমরা গর্ভ পরীক্ষা নিশ্চিত করে দিচ্ছি। সেগুলো গর্ভবতী আছে নাকি নাই সেগুলো পরীক্ষা করে দিচ্ছি। প্রাণিসম্পদের আরও কর্মকর্তারা উপস্থিত আছে এখানে, কোনো গরু অসুস্থ হয়ে গেলে তাদেরকে সেবা দিচ্ছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, কোরবানির পশুর হাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোবাইল টিম টহল রয়েছে। এছাড়া সাদা পোষাকে ডিবি পুলিশ ও বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
